সানি সরকার, শিলিগুড়ি: কখনও রিমঝিম, কখনও আবার ঝমাঝম। দিনভর শুনসান ম্যাল, ফাঁকা চৌরাস্তার দোকানগুলি। সন্ধের সময় বৃষ্টি বিরতি ঘটলেও, ম্যালের পথে পা বাড়াননি কেউই। চৌরাস্তায় কয়েকজন ঢুঁ মেরেছিলেন, গরম পোশাক কেনার দাগিদে। উৎসব শেষে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শনের জন্য যে পর্যটকরা, দার্জিলিংয়ে পা রেখেছিলেন, তাঁরা হতাশ প্রকৃতির ‘গাল ফোলা’ মনোভাবে।
দফাওয়াড়ি বৃষ্টিতে মন ভালো নেই সমতলেরও। টানা তিনদিন ধরে যদি বৃষ্টি হয়, কার বা ভালো লাগে। তার মধ্যে জলকাদায় যদি ছুটির দিনটা নষ্ট হয়! তাই সর্বত্রই প্রশ্ন, ‘বরুণ দশা’ ঘুঁচবে কবে?
মন্থার পরোক্ষ প্রভাবেই যে এমন পরিস্থিতি, তা এখন আর কারও অজানা নয় কারও। আকাশ পরিস্থিতিতে স্পষ্ট, ক্রমেই মন্থার প্রভাবমুক্ত হচ্ছে উত্তরবঙ্গ (North Bengal)। রবিবার ছুটির দিন থেকেই পরিবর্তন ঘটবে আবহাওয়ার। সময়ের সঙ্গে আকাশ পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে। রবি এবং সোমবার রোদ-মেঘের লুকোচুরি চললেও, মঙ্গলবার থেকে উত্তরের আকাশ থাকবে সম্পূর্ণভাবেই মেঘমুক্ত, যতদিন না আবার কোনও নিম্নচাপ তৈরি হয় সাগরে বা শক্তিশালী পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ধাক্কা না মারে পাহাড়ে (Climate Report)।
আগামীতে দিনে যেমন রোদ উঠবে, তেমনভাবেই রাতে তাপমাত্রার পতন ঘটবে। উত্তুরে হাওয়ার দাপট বাড়বে। অনুভূত হবে জাঁকিয়ে ঠান্ডা। মন্থার প্রভাব এবং ঝঞ্ঝার দাপটে অবশ্য গত দু’দিন ধরেই ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। শনিবার তো পাহাড় থেকে সমতল, রাত তো বটেই, দিনেও তাপমাত্রার পতন ঘটেছে অস্বাভাবিকভাবে। যা কাঁপন ধরিয়েছে উত্তরবঙ্গকে। বৃহস্পতিবার পাহাড়ে উঠেছেন শিলিগুড়ির দেশবন্ধুপাড়ার পাঞ্চািল বসাক। এদিন বললেন, ‘বৃষ্টি হলেও, সূর্য এবং কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মিলবে না, কল্পনাতেও ছিল না। কিন্তু এখন দেখছি, সময় নির্বাচন ভুল ছিল। সকাল থেকে রাত হোটেলে কাটিয়ে টাকা গুনতে হচ্ছে।’ আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য বলছে, এদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ৯ ঘণ্টায় দার্জিলিংয়ে বৃষ্টি হয়েছে ১৩ মিলিমিটার। যা উত্তরবঙ্গের জেলা শহরগুলির থেকে অনেক বেশি। ধারেকাছে কিছুটা আছে আলিপুরদুয়ার (১১.৪)। পুজো শেষে হালকা শীতে এই সময়ে পাহাড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন বা টাইগার হিল থেকে সূর্যদয়, অসাধারণ অনুভূতি। তাছাড়া পর্যটন মরশুম শেষ হয়ে যাওয়ায়, খরচটাও কম পড়ে। তাই অনেকেই পাহাড়ে ছুটে আসেন। কালিম্পংয়ের হোটেল ব্যবসায়ী সিদ্ধান্ত সুদ বললেন, ‘খুব বেশি ভিড় না থাকলেও, পর্যটক নেই, বলা যাবে না। কিন্তু যাঁরা এসেছেন, তাঁদের জন্য আমাদেরও খারাপ লাগছে। বেড়াতে এসে হোটেলের ঘরেই থাকতে হচ্ছে তাঁদের। আবহাওয়া কবে অনুকূল হবে, বুঝতে পারছি না।’
আকাশ যত পরিষ্কার হবে, ততই রাতের তাপমাত্রা হ্রাস পাবে, শীতের সময় এটাই দস্তুর। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে দু’দিনের বৃষ্টির সৌজন্যে দিনের তাপমাত্রার পতনও এদিন ঘটেছে অস্বাভাবিকভাবে। উত্তরবঙ্গের প্রতিটি বড় শহর এদিন ২৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের গণ্ডি টপকাতে পারেনি। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সন্ধে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কোচবিহারে মাত্র ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৩.২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। ভাবা যায়! আবহাওয়া দপ্তরের সিকিমের কেন্দ্রীয় অধিকর্তা গোপানাথ রাহা বলছেন, ‘সূর্যের আলোয় দিনের তাপমাত্রার কিছুটা বৃদ্ধি পাবে। তবে রাতের তাপমাত্রা হুহু করে কমবে, অন্তত আগামী কয়েকদিন।’
