উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ সাপের উপস্থিতি দেখলেই সাধারণত মানুষের মনে প্রথম যে অনুভূতিটি জাগে, তা হলো আতঙ্ক। আত্মরক্ষার্থে মানুষ হয় পিছিয়ে যায়, না হয় দূরত্ব বজায় রাখে। কিন্তু ভারতের এমন একটি প্রত্যন্ত গ্রাম রয়েছে, যেখানে সাপের উপস্থিতি কোনো ভয় বা জরুরি অবস্থার সৃষ্টি করে না। মহারাষ্ট্রের সোলাপুর (Solapur) জেলায় অবস্থিত শেতফল (Shetphal) নামক এই গ্রামটি দেশজুড়ে ‘সাপের গ্রাম’ (Snake Village) নামে পরিচিত। এখানে বিষধর গোখরো সাপের সঙ্গে মানুষের এক অবিশ্বাস্য ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়ে উঠেছে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাদের জীবনযাত্রার অংশ হয়ে উঠেছে।
শেতফল গ্রামের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও ব্যতিক্রমী বিষয় হলো এখানকার ঘরবাড়িগুলোর গঠন। এই গ্রামের বহু বাড়িতেই বিষধর সাপেদের, বিশেষ করে গোখরো সাপের বিশ্রামের জন্য ঘরের ভেতরেই বিশেষ জায়গা বা আলাদা কোণ তৈরি করে রাখা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা সাপকে ভয়ের বদলে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের চোখে দেখেন। দীর্ঘদিনের এই পারস্পরিক বিশ্বাসের কারণে সাপের মুক্ত আনাগোনা এখানে অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি ঘটনা।
গ্রামের এই অনন্য ঐতিহ্যের পেছনে রয়েছে গভীর ধর্মীয় বিশ্বাস এবং নাগ পূজার দীর্ঘ ইতিহাস। গ্রামের এই সংস্কৃতির মূল দিকগুলি হলো:
- পবিত্রতার প্রতীক: স্থানীয় বাসিন্দারা গোখরো সাপকে অত্যন্ত পবিত্র ও পূজনীয় মনে করেন।
- দৈনন্দিন জীবনের অংশ: ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে মূলত ‘নাগ পঞ্চমী’র মতো বার্ষিক উৎসবে সাপ পূজার চল থাকলেও, শেতফল গ্রামে এই শ্রদ্ধা কোনো নির্দিষ্ট দিনের ফ্রেমে বাঁধা নয়, বরং তা প্রাত্যহিক জীবনের অঙ্গ।
- নিরাপত্তার বিশ্বাস: গ্রামবাসীদের দৃঢ় বিশ্বাস যে, বহু বছর ধরে চলে আসা এই পারস্পরিক মেলবন্ধন ও শ্রদ্ধার কারণে সাপ কখনই কোনো বাসিন্দার ক্ষতি করে না।
শহরাঞ্চলের মতো এখানে সাপ দেখে কেউ আতঙ্কিত হন না, বরং সাপেদের অবাধ গতিবিধিতেই অভ্যস্ত স্থানীয়রা। এই অনন্য বৈশিষ্ট্যের জন্যই শেতফল আজ ভারতের অন্যতম অদ্ভুত ও চর্চিত একটি গ্রাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
এই গ্রামটি পর্যটকদের আকর্ষণ করলেও, এখানে আসার আগে কিছু নিয়ম অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এটিকে স্রেফ কোনো ‘তামাশা’ বা রোমাঞ্চের জায়গা হিসেবে না দেখে, স্থানীয় সংস্কৃতিকে সম্মান জানানো উচিত।
- সাপ স্পর্শ করবেন না: কোনো অবস্থাতেই সাপকে ছোঁয়ার বা ধরার চেষ্টা করা যাবে can।
- স্থানীয়দের পরামর্শ মানুন: গ্রাম পরিদর্শনের সময় স্থানীয় মানুষদের দেওয়া নির্দেশিকা ও নিয়মাবলী কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
- ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা: অনুমতি ছাড়া বন্যপ্রাণীদের বিরক্ত করা বা কারও ব্যক্তিগত বাসগৃহে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
যদি আপনি শেতফল গ্রামটি ঘুরে দেখতে চান, তবে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যবর্তী সময়টি সবচেয়ে আদর্শ। এই সময়ে এখানকার আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা এবং ভ্রমণের জন্য আরামদায়ক থাকে। গ্রীষ্মকালে এই অঞ্চলে তীব্র গরম পড়ে, যা যাতায়াতের পক্ষে বেশ কষ্টকর।
