Sizzling Bag | শৈত্যপ্রবাহে কাবু বালুরঘাট, সাবেকি রাবার ছেড়ে ফ্যাশনের ছোঁয়া লেগেছে হট ব্যাগে

Sizzling Bag | শৈত্যপ্রবাহে কাবু বালুরঘাট, সাবেকি রাবার ছেড়ে ফ্যাশনের ছোঁয়া লেগেছে হট ব্যাগে

ব্লগ/BLOG
Spread the love


পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট: জাঁকিয়ে পড়েছে শীত। সন্ধ্যা নামলেই কাঁপুনি ধরাচ্ছে উত্তরের হাওয়া। বালুরঘাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা গত বছরের রেকর্ডও ভেঙে ফেলেছে। এই অবস্থায় লেপকম্বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সকলের অস্ত্র হয়ে উঠেছে হট ব্যাগ (Sizzling Bag)। তবে সেই হট ব্যাগেও লেগেছে ফ্যাশনের ছোঁয়া। কোথাও লাল, নীল, সবুজ আবার কোথাও রঙিন উলের আচ্ছাদনে মোড়া হট ব্যাগে ছেয়েছে শহরের বাজার। যেখানে হাত-কবজি পর্যন্ত ঢুকিয়ে গরম রাখার জন্য রয়েছে পকেটও।

শহরের ডানলপ মোড় থেকে তহবাজার, নিউ মার্কেট কিংবা গীতাঞ্জলি- প্রায় সব জায়গার দোকানে জায়গা নিয়েছে নানা মাপ ও রংয়ের হট ব্যাগ। তবে আগে রাবারের ব্যাগের ভেতরে গরম জল ঢেলে মুখ লাগিয়ে ব্যবহার করতেন অনেকে। কিন্তু এখন ব্যস্ততার কারণে ইলেক্ট্রিক হট ব্যাগের চাহিদা বেড়েছে। প্লাস্টিকের চিরাচরিত গরম ব্যাগের উপর উলের কভার, কোথাও আবার দুই হাত ঢোকানোর মতো পকেট লাগানো বিশেষ নকশা। সেই ব্যাগে আঙুল গুঁজে দিলে ঠান্ডার দাপট কিছুটা হলেও কমে।

তহবাজারের বিক্রেতা সঞ্জয় সাহার কথায়, ‘এবার শীতে হট ব্যাগের চাহিদা আগের তুলনায় বেশি। আগে মানুষ সাদামাঠা ব্যাগ নিত। এখন রং আর ডিজাইন দেখে কিনছে। পকেটওয়ালা উলের হট ব্যাগ সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে তা একটু গরম হতে সময় বেশি নেয়। যার দাম শুরু হচ্ছে ১৮০ টাকা থেকে, ভালো মানের উলের কভার দেওয়া ব্যাগের দাম ২০০-২২০ টাকা।’ নিউ মার্কেটের আরেক দোকানি রবিন পাল জানালেন, বিশেষ করে মহিলারা রং মিলিয়ে ব্যাগ নিচ্ছেন। বাচ্চাদের জন্য আলাদা নরম কভারও আছে। বিভিন্ন রংয়ের ব্যাগ ১৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। যা গরমও হয় খুব তাড়াতাড়ি।

ডানলপ মোড়ে হট ব্যাগ কিনছিলেন ষাটোর্ধ্ব নরেন বসু। তাঁর কথায়, ‘আমার তো বাতের ব্যথা, আর স্ত্রীর পা সব সময় ঠান্ডা। দুজনের জন্য দুটো আলাদা রংয়ের ব্যাগ নিচ্ছি। শীতে এটা ছাড়া উপায় নেই।’ মধ্যবয়স্ক বেসরকারি কর্মী বিশ্বজিৎ দাস জানান, সারাদিন অফিসে বসে থাকতে হয়। রাতে বাড়ি ফিরে হট ব্যাগটা ধরলে শরীরটা আরাম পায়। তবে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে খানিক চিন্তায় তিনি।

গীতাঞ্জলি মার্কেটে গৃহবধূ অনন্যা ঘোষ তাঁর ছোট ছেলের জন্য হট ব্যাগ কিনতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘স্কুল থেকে ফিরেই ঠান্ডায় হাত-পা বরফ হয়ে যায়। এই পকেটওয়ালা হট ব্যাগটা ও নিজেই ধরতে পারবে। রংটাও ওর পছন্দ হয়েছে। আগের ব্যাগগুলো আকারে বেশ বড় হওয়ায় সমস্যা হত। এগুলো বেশ ছোট আকারের।’ শীতের মরশুমে এখন বালুরঘাটের বাজারে হট ব্যাগ শুধু প্রয়োজনীয় জিনিস নয়, রীতিমতো স্টাইল স্টেটমেন্ট। ঠান্ডার হাত থেকে রেহাই পেতে গরমের সঙ্গে রং আর নকশার মেলবন্ধনেই ভরসা রাখছে শহর।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *