কার্শিয়ং: পাহাড়ের কোলে আনন্দঘন ছুটির মুহূর্ত নিমেষেই বিভীষিকায় বদলে যাওয়ার ঘটনায় বড় পদক্ষেপ নিল পুলিশ। সিটংয়ের এক হোমস্টেতে পর্যটক গৃহবধূ অগ্নিদগ্ধ (Sitong Homestay Hearth Incident) হওয়ার ঘটনায় হোমস্টের মালিক ও ম্যানেজার সহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে কার্শিয়ং থানার পুলিশ। শনিবার দুপুরে ধৃতদের গ্রেপ্তার করা হয়। কার্শিয়ং মহকুমার মনোরম পাহাড়ি গ্রাম সিটংয়ের (সিটং-১) খাসমহল এলাকার এই ঘটনায় বর্তমানে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ওই গৃহবধূ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া চারজন হলেন পবন কুমার আগরওয়াল, দীপেন লামা, নেহাল এবং নাসিরুদ্দিন। এঁরা প্রত্যেকেই কার্শিয়ং থানা এলাকার বাসিন্দা। অগ্নিদগ্ধ ওই গৃহবধূর পরিবারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার দুপুরে কার্শিয়ং থানার পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
ঘটনাটি গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতের। চোপড়ার রবীন্দ্রনগর কলোনির বাসিন্দা সৌভিক সাহা ও তাঁর স্ত্রী নিকিতা সাহা মোটর সাইকেলে চড়ে সিটংয়ের ওই হোমস্টেতে উঠেছিলেন। হোমস্টের ম্যানেজার দীপেন লামার দাবি অনুযায়ী, সেদিন রাতে সমস্ত ঘর বুকিং থাকায় প্রচুর পর্যটক ছিলেন। রাতের মেনুতে মাছের ব্যবস্থা থাকলেও ওই দম্পতি চিকেন বারবিকিউ অর্ডার করেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কাঠকয়লার আগুন নিভু নিভু দেখলে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি সেখানে জ্বালানি জাতীয় তরল ঢেলে দেন, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে এবং তরুণীর সারা শরীরে আগুন ধরে যায়। ম্যানেজারের দাবি, তিনি সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে গিয়ে ভেজা তোয়ালে জড়িয়ে আগুন নেভান।
আহত তরুণীর বাবা নির্মল সাহার অভিযোগ, হোমস্টেটিতে ন্যূনতম কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। শুধু তাই নয়, মেয়ে অগ্নিদগ্ধ হওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়। সিটংয়ে অ্যাম্বুল্যান্স না মেলায় এবং গাড়ি আসতে দেরি হওয়ায় পাহাড় থেকে সমতলে শিলিগুড়িতে রোগী নামাতে ও চিকিৎসা শুরু করতে মারাত্মক দেরি হয়ে যায়। পরিবারের দাবি, সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে এই চরম পরিস্থিতি এড়ানো যেত। অন্যদিকে, দিলারাম ফাঁড়ির পুলিশ ইতিমধ্যেই হোমস্টে পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছে এবং কার্সিয়াংয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনিন্দ্যসুন্দর ভট্টাচার্য জানিয়েছেন যে অভিযোগের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্রগুলির হোমস্টেতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে যে বারবার প্রশ্ন ওঠে, এই মর্মান্তিক ঘটনা তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিল।

