হরষিত সিংহ, মালদা: পর্যটকদের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে চলতি মরশুমেই আলোকসজ্জায় সেজে উঠবে গৌড় (Gour)। আমবাগান দিয়ে ঘেরা প্রাচীন গৌড়ের ভাস্কর্য-সৌধগুলি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে চারদিকে। এবার এই সমস্ত সৌধকে পর্যটকদের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে আধুনিক আলো দিয়ে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে মালদা (Malda) জেলা প্রশাসন।
আগামী কালীপুজোর (Kali Puja) মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। শুধু আলো দিয়ে সাজানোই নয়, পর্যটকদের সুবিধার জন্য গৌড় প্রাঙ্গণে তৈরি করা হবে শৌচালয়, থাকবে ক্যাফে এবং বিভিন্ন স্টল। মালদার জেলা শাসক রাজনবীর সিং কাপুর বলেন, ‘দেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে সাময়িকভাবে কিছুটা অংশ সাজানো হয়েছিল। আগামীতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গৌড়ের সমস্ত দর্শনীয় স্থান আলো দিয়ে সাজানো হবে।’
রামকেলি থেকে শুরু করে লুকোচুরি মসজিদ পর্যন্ত বিস্তৃত গৌড়ের ধ্বংসাবশেষ। শুধু তাই নয়, আমবাগানঘেরা মহদীপুর এলাকার বিভিন্ন জায়গাতেও গৌড়ের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। বর্তমানে পর্যটকরা সেখানে গেলেও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যার পর কেউ থাকেন না। এই অবস্থায় বিগত সরকারের আমলেও গৌড়ের কিছু কিছু জায়গায় আলো ও সাউন্ড সিস্টেম বসানো হয়েছিল। তবুও পর্যটকরা সন্ধ্যার পর ওমুখো হননি। এদিকে ব্যবহারের অভাবে সেসব নষ্টও হয়ে গিয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে জেলা প্রশাসন আলো দিয়ে সাজানোর পরিকল্পনা নিচ্ছে। কিন্তু তার পরও পর্যটকরা কতটা আসবেন সন্ধ্যার পর, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
যদিও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামীতে পর্যটকদের জন্য মালদা শহর থেকে গৌড় পর্যন্ত একটি এসি বাসের ব্যবস্থা করা হবে। যে বাসে করে পর্যটকদের গোটা গৌড় ঘোরানো হবে। এর আগেও জেলা প্রশাসন বা পর্যটন দপ্তরের পক্ষ থেকে পর্যটকদের জন্য এসি বাস নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু পর্যটক না হওয়ায় সেই ব্যবস্থা বেশিদিন চালু থাকেনি। ইংরেজবাজারের বিধায়ক তথা বিধানসভার মুখ্য সচেতক অম্লান ভাদুড়ি বলেন, ‘গৌড় মালদার আবেগ। সারা বছর এখানে আলো থাকবে, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি নতুন এসি বাস গৌড় পর্যন্ত চলাচল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সমস্ত কিছু বাস্তবায়িত করা হবে।’
একসময় মালদা শহর থেকে গৌড় যাওয়ার ভরসা ছিল হাতেগোনা কিছু গাড়ি ও বাস। বর্তমানে টোটো হওয়ায় খুব সহজেই পর্যটকরা যাতায়াত করতে পারেন। কিন্তু সন্ধ্যা হলেই ওই রাস্তায় যানবাহন তেমন চলাচল করে না। গাড়িচালক চমৎকার মণ্ডল বলেন, ‘সারাদিন টোটো, ট্যাক্সি এমনকি বাস চলাচল করে গৌড় রুটে। সন্ধ্যা হলেই আর কোনও গাড়ি চলাচল করে না। সেই সময় কেউ যদি যাতায়াত করতে চান তাহলে গাড়ি ভাড়া করতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগে আমরা খুশি, এতে হয়তো পর্যটক বাড়বে।’

