জামুড়িয়া ও আসানসোলঃ পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুরিয়ার তৃণমূল বিধায়ক হরেরাম সিং শুধু পশ্চিমবঙ্গের ভোটারই নয়, বিধায়কের নাম রয়েছে উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকায়। অভিযোগ, বিধায়কের রয়েছে দুটি পৃথক পৃথক ভোটের সচিত্র পরিচয়পত্র। এই অভিযোগ সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে। স্বাভাবিক ভাবেই এসআইআর আবহে রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করতে ছাড়েনি রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি।
জানা গিয়েছে, জামুড়িয়া বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক হরেরাম সিংয়ের নাম রয়েছে উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলার সালেমপুর লোকসভার বনসডিহি বিধানসভার ভোটার তালিকায়। যোগী রাজ্যের ভোটার তালিকার নামটি ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর সর্বশেষ আপডেট করা হয়েছে। অন্যদিকে, এই রাজ্যের পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের পান্ডবেশ্বর বিধানসভার ভোটার তালিকায় জামুড়িয়ার বিধায়কের নাম রয়েছে। এই ভোটার তালিকার নামটি ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বরে আপডেট করা হয়েছে। কী কারণে উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকায় নিজের নাম নথিভূক্ত করেছেন তা নিয়ে প্রশ্নের মূখে পড়েছেন তৃণমূল বিধায়ক। এই ঘটনায় এসআইআর আবহে যথেষ্টই অস্বস্তিতে পড়েছেন হরেরাম সিং। তিনি অবশ্য এর দায় চাপিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের ঘাড়ে। তিনি শুধু বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে এর উত্তর দিতে হবে। কারণ এটি নির্বাচন কমিশনের বিষয়। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।”
বিষয়টি সামনে আসতেই সুর চড়িয়েছে বিজেপি। আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “২০১১ সাল থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপি করে কেবলমাত্র হরেরাম সিং নয়, গোটা তৃণমূল দলটাই নির্বাচনে জয়লাভ করে আসছে। এখন পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর করা হচ্ছে, তাই তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো থেকে সব নেতারা ক্ষুব্ধ।” বিজেপি বিধায়ক আরও বলেন, “হরেরাম সিং কখনও উত্তরপ্রদেশে ভোট দিয়েছেন কিনা তার তদন্ত করার জন্য অনুরোধ করবো বিজেপি সরকারকে।”
এই প্রসঙ্গে শাসক দলের জেলা নেতৃত্বের তরফে গোটা বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তাদের কথায়, কার কোথায় নাম আছে তা দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এদিকে, পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
