উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: টলিপাড়ার রাজনৈতিক তরজা এবার পৌঁছে গেল ব্যক্তিগত সম্পর্কের অন্দরে। অভিনেতা জীতু কমল এবং সাংসদ সায়নী ঘোষের মধ্যকার বাকযুদ্ধ এখন টলিউডের সবচেয়ে চর্চিত বিষয়। গত ১৪ মে এক সাক্ষাৎকারে সায়নীকে (Saayoni Ghosh) নিয়ে জীতুর করা মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। যার জবাবে সায়নী সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করে জীতুর (Jeetu Kamal) বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। এমনকি দাবি করেন, জীতুর কিছু ‘কুকীর্তি’ নিয়ে নাকি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন অভিনেতার প্রাক্তন স্ত্রী নবনীতা দাস (Nabanitha Das)।
সায়নী ঘোষের এই বিস্ফোরক দাবির জবাব দিতেই দীর্ঘ তিন বছর পর ফের একসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া লাইভে এলেন জীতু ও নবনীতা। বিচ্ছেদের পর এই প্রথম প্রাক্তন দম্পতিকে এক ফ্রেমে দেখা গেল। লাইভে এসে দু’জনেই সায়নীর দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। জীতু বলেন, “মিথ্যে বলতে বলতে এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছেন যেখানে মানুষ আর বিশ্বাস করছে না।” অন্যদিকে নবনীতাও স্পষ্ট জানান, তিনি কখনও জীতুর বিরুদ্ধে এই ধরণের কোনো অভিযোগ নিয়ে কারও সাথে যোগাযোগ করেননি।
লাইভে এসে সায়নী ঘোষের পুরোনো বিতর্কিত মন্তব্য মনে করিয়ে দিয়ে জীতু তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, ‘আপনি তো জন-প্রতিনিধি, তাই না! “ঈশ্বরের আশীর্বাদে” মানে? আপনি ঈশ্বর মানেন নাকি? আপনি আমার মহাদেবের লিঙ্গে কনডম পরিয়ে খিল্লি করেছিলেন। আমি সুবিধাবাদী! আচ্ছা? কোন সুবিধাটা আমি আপনার থেকে নিয়েছি? একটু খোঁজ দিন তো সায়নী দেবী।’
এই লাইভের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল এর লোকেশন। কোনো ব্যক্তিগত জায়গা নয়, জীতু লাইভটি করেন ‘কেন্দুয়া শান্তিসংঘের’ পুজোমণ্ডপের সামনে দাঁড়িয়ে—যে পুজোর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার খোদ সায়নী ঘোষ! ফলে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলের মতে, এটি ছিল সায়নীর বিরুদ্ধে জীতুর অত্যন্ত কৌশলী এক পাল্টা বার্তা। লাইভ চলাকালীন নবনীতার হাত থেকে কুলফি নিয়ে জীতুকে খুনসুটি করতেও দেখা যায়, যা দেখে নস্টালজিক হয়ে পড়েন অনুরাগীরা।
সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে লাইভে জীতু বলেন, “বাংলা রাজনীতিতে একটা নোংরা ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে। কেউ ডিভোর্স করলেই ধরে নেওয়া হয় তাঁদের মধ্যে বিষাক্ত সম্পর্ক রয়েছে। আমরা সেটা মানি না।” তিনি বার্তা দেন, বিচ্ছেদের পরেও দুজন মানুষ আজীবন ভালো বন্ধু হয়ে থাকতে পারেন।
এই লাইভের পর টলিপাড়ায় জল্পনা তুঙ্গে। একাংশের মতে, সায়নীর ব্যক্তিগত আক্রমণের জবাব খুব পরিকল্পিতভাবেই দিয়েছেন জীতু এবং এই বিতর্কে প্রাক্তন স্ত্রীর প্রকাশ্য সমর্থন পাওয়াটাই অভিনেতার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।
