Baradighi Tea Backyard | কলেজে ক্লাস শেষে টোটোচালক তৃষা

Baradighi Tea Backyard | কলেজে ক্লাস শেষে টোটোচালক তৃষা

শিক্ষা
Spread the love


রহিদুল ইসলাম, চালসা: মাটিয়ালি ব্লকের বড়দিঘি চা বাগানের (Baradighi Tea Backyard) তৃষা টোপনো এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। ১৯ বছর বয়সি তৃষা ভোরের আলো ফুটতেই টোটো নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের ভার এসে পড়েছে বড় মেয়ে তৃষার ওপর। কিন্তু সে হাল ছাড়েনি। যে টোটোতে একসময় বাবার পাশে বসে যেতেন এখন সেই টোটোই তাঁর জীবনের ভরসা, সংগ্রামের সঙ্গী। সকালে কলেজ, বিকেলে টোটো চালানো এই ছন্দে তৃষার দিন এগিয়ে চলে। তৃষার কথায়, ‘আমার বয়স যখন ১৪ তখন থেকে বাবার সঙ্গে টোটো চালানো শিখেছি। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে একাই চালাই। মায়ের পক্ষে চা বাগানে কাজ করে সংসার চালানো খুব মুশকিল হয়ে পড়েছিল। মাকে সাহায্য, ভাইবোন ও আমার পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে এই জীবনসংগ্রাম। পাশাপাশি সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

মালবাজারের পরিমল মিত্র স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের এই ছাত্রীর প্রতিদিনের লড়াইয়ের ভিডিও এখন সমাজমাধ্যমে ঝড় তুলেছে। নেটিজেনরা বলছেন, ‘তৃষা শুধু টোটো নয়, চালাচ্ছে স্বপ্নের গাড়ি।’ প্রতিদিন সকালে তৃষা নিজের সমাজমাধ্যমের পেজে জানিয়ে দেয় কোন রাস্তায় যাবে, কোথায় টোটো চালাবে। সেই পোস্ট নেটিজেনদের উৎসাহ, ভালোবাসা ও শুভেচ্ছার বন্যায় ভরে যায়। সম্প্রতি উত্তর ধূপঝোরা পিপলস ক্লাবের মাঠে তৃষাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সংবর্ধিত করা হয়। আদিবাসী নেতা রাজেশ লাকড়া বলেন, ‘তৃষার জীবনকাহিনী অনবদ্য। আমরা তাঁকে সম্মান জানিয়েছি।’

বড়দিঘি চা বাগানের প্রত্যন্ত শ্রমিক মহল্লা রঘুনাথ লাইন। সেখানে টোপনো পরিবারের বসবাস। বাবা মার্টিন টোপনো যক্ষ্মারোগী  ছিলেন। টোটো চালানো তাঁর আয়ের একমাত্র পথ ছিল। চার বছর আগে মার্টিন প্রয়াত হন। এরপর সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে তৃষা টোটো চালানো শুরু করেন। তারপর কলেজে ভর্তি হযন। মা রোহিতা টোপনো বাগানের শ্রমিক। ভাই আহান, দুই বোন ইশা ও আলফোনসারা পড়াশোনা করছে। স্বামীর মৃত্যুর পর চার ছেলেমেয়েকে নিয়ে রোহিতার একার পক্ষে সংসার টানা সম্ভব ছিল না। রোহিতার বক্তব্য, ‘চা বাগানে কাজ করে সংসার খরচ চালানো দুষ্কর। তৃষা টোটো চালিয়ে যা আয় করে তাতে অনেকটা সুবিধা হয়। তৃষা পরিবারের বড়ছেলের মতো দায়িত্ব পালন করছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *