রায়গঞ্জ: স্ত্রী তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা, আবার সেই বুথেই বিএলওর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন স্বামী। স্ত্রী যে গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা সেটাও তিনি জানাননি নির্বাচন কমিশনের কাছে। ফলে পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি করছেন এবং সেই সঙ্গে বলে দিচ্ছেন পঞ্চায়েত সদস্যা তাঁর স্ত্রীর কাছে গিয়ে ফিলাপ করতে হবে। ভুল হলে ফর্ম বাতিল হবে। সেই মতো স্ত্রী কয়েকজন কর্মী নিয়ে এলাকায় ক্যাম্প করে এসআইআরের ফর্ম ফিলাপ করছেন। রবিবার দুপুর ১২ টা নাগাদ মাড়াইকুড়া অঞ্চলের শ্যামপুর মোড় এলাকায় ৮২ নং দক্ষিণ কসবা এলাকায় দেখা গেল মেলা বসেছে। গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যা কল্পনা বর্মন তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যানার লাগিয়ে কয়েকটি চেয়ার- টেবিল বিছিয়ে ভোটারদের ফর্ম ফিলাপ করাচ্ছেন। বেশ কয়েকজন এই কাজে লেগেছেন।
বিএলও অমূল্য বর্মন একজন বিজেপির প্রতিনিধি নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন এবং ভোটারদের ফর্ম ফিলাপের জন্য ক্যাম্পে পাঠিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। এদিকে স্বামী বিএলও হওয়ার ফলে স্ত্রী সেটাকে কাজে লাগিয়ে বাড়তি রাজনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।
নির্বাচন কমিশনের নিয়মকে উপেক্ষা করে তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামীকে দেওয়া হয়েছে বিএলওর দায়িত্ব। এমন বিষয় প্রকাশ্যে আসতেই তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এদিন বাড়ি বাড়ি এসআইআর ফর্ম বিলি করার সময় বিএলও অমূল্য বর্মন স্বীকার করেন, তার স্ত্রী কল্পনা বর্মন গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যা। তিনি এই বিষয়টি মৌখিকভাবে প্রশাসনকে জানিয়েছিলেন, কিন্তু লিখিত জানাননি। কিন্তু তারপরেও তাকে কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। তবে কাজ করতে কোনওরকম অসুবিধে হচ্ছে না।
ওই বুথের বিজেপির বিএলএ-২ খোকন দে জানান, তাঁর কোনও অভিযোগ নেই এবং কোনরকম অসুবিধা হচ্ছে না। বিষয়টি তার দল জানে। এদিকে এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিজেপির যুব মোর্চার জেলা সহ-সভাপতি শুভম সান্যাল। তিনি জানান, এ ব্যাপারে বারবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হলেও কোনও ব্যবস্থা হয়নি। তাদের বিএলএ হয়তো ভীত হয়ে কোনও অভিযোগ করেননি সংবাদ মাধ্যমের কাছে।
অন্যদিকে এই বিষয়টিকে কটাক্ষ করেছেন সিপিএমের বিএলএ-২ সঞ্জীব সাহা। বিজেপি ও তৃণমূল যে সেটিং করে চলছে তা এই বুথেই আবার প্রমাণিত হল। বিজেপি প্রতিনিধিদের নিয়ে বিএলওরা ঘুরলে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও সমস্যা হচ্ছে না, কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সিপিএমের প্রতিনিধিরা থাকলেই। তাই বিএলওরা আমাদের বাদ দিয়ে ঘুরছে। এদিন তৃণমূল ক্যাম্পে থাকা গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা তথা বিএলওর স্ত্রী কল্পনা বর্মন দাবি করেন, ‘আমরা দলগত ভাবে এই কাজ করছি’।
পাল্টা সাফাই গিয়েছেন রয়গঞ্জ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতি আলতাব হোসেন। তিনি বলেন, ‘এ রাজ্যে সবাই তো তৃণমূল করে। তৃণমূলের বাইরে কে আছে? এই সমস্ত অভিযোগ ধোপে টিকবে না।’
