সানি সরকার, শিলিগুড়ি: দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন উড়ালপুল থেকে একের পর এক গাড়ি নামছে, ওরা দাঁড়িয়ে হনুমান মন্দিরের ডানদিকে। উড়ালপুলের দিক থেকে গাড়ি নামা বন্ধ হতে ওরা রওনা দিল। কিন্তু একটু এগিয়েই থমকে যেতে হল। কারণ, তখন আবার বিধান রোড থেকে গাড়ির সারি হিলকার্ট রোড ধরেছে। যা নজরে পড়তেই হাসমি চকে কর্তব্যরত এক ট্রাফিক পুলিশকর্মী এগিয়ে এসে শিলিগুড়ি (Siliguri) বয়েজ হাইস্কুলের পড়ুয়াদের রাস্তা পার করে দিলেন। এই সমস্যা প্রত্যেকদিনের। এমন সমস্যায় পড়তে হয় পথচারী প্রায় প্রত্যেককেই। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তা পারাপার করতে গিয়ে একটু অসতর্কতার জন্য অনেককে দুর্ঘটনার মুখোমুখিও হতে হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি ঘটবে শহর শিলিগুড়ির।
শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, শিলিগুড়ির সব রাস্তাতেই গাড়ির অবিরাম স্রোত। ফুটপাথ দখল ও যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের ফলে রাস্তা পারাপার করা এই শহরে অত্যন্ত ঝুঁকির। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, রাস্তা পার হতে পথে সময় নষ্ট হয় পথচারীদের। যা স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামোর ভঙ্গুর ছবিটা স্পষ্ট করে। পথচারীদের এই নিত্যদিনের দুশ্চিন্তা ও দুর্ঘটনাপ্রবণ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে এবার পদক্ষেপ করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। পথ নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে রাজ্যের সাহায্যে প্রাথমিকভাবে শিলিগুড়ি শহরে মোট পাঁচটি আধুনিক ফুট ওভারব্রিজ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। পরিকল্পনা অনুযায়ী ফুট ওভারব্রিজগুলি হবে হাসমি চক (দুটি), সেবক মোড় সংলগ্ন সেবক রোড, তেনজিং নোরগে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাস সংলগ্ন হিলকার্ট রোড এবং মাল্লাগুড়িতে। পরবর্তীতে বিধান রোড এবং স্টেশন ফিডার রোড সহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাস্তায় পারাপারের এমন ব্রিজ তৈরি করা হবে। ‘ওয়ান স্টেট, ওয়ান ডেস্টিনেশন’ প্রকল্পে দার্জিলিং জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে কেন্দ্র। যার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। ওই বরাদ্দে ফুট ওভারব্রিজ তৈরির সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে। দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্টের বক্তব্য, ‘নির্বাচনের সময় দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হবে। অদূরভবিষ্যতে পাহাড়ের পাশাপাশি সমতল শিলিগুড়িতে আর কোনও যানজট থাকবে না। যানজট সমস্যা দূর করতে পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি কাজ করা হচ্ছে। ডাবল ইঞ্জিন সরকার কেন প্রয়োজন, সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছেন।’
ফুট ওভারব্রিজগুলি তৈরি হলে শুধু পথচারীরা উপকৃত হবেন তা নয়, গতি বাড়বে গাড়ির। যানজট সমস্যাও কিছুটা দূর হবে। যে কারণে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন শহরের সাধারণ বাসিন্দা থেকে বণিক ও শিল্পমহল। কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থার কর্মী সঞ্জীব দত্ত বলছেন, ‘সেবক রোড ধরে অফিস যেতে প্রত্যেকদিন বাড়তি সময় এবং গাড়ির জ্বালানি খরচ হয়। ট্রাফিক সিগন্যালের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়াতে হয় সাধারণ মানুষের রাস্তা পারাপারের জন্য। সেবক রোডেও ফুট ওভারব্রিজ প্রয়োজন।’ হকার্স কর্নারের ব্যবসায়ী হারান দত্ত বলছেন, ‘যেভাবে শহরে গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে, তাতে ফুট ওভারব্রিজ সময়ের দাবি।’ শিল্পপতি সঞ্জিত সাহা মনে করেন, ‘কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শহরের রাস্তার ছবিটা বদলে যাবে। স্বস্তি পাবেন সাধারণ মানুষ।’

