অনুপ মণ্ডল, বুনিয়াদপুর: বুনিয়াদপুরে (Buniadpur) একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটে চলেছে। এবার চোরদের নজরে পড়েছে কৃষকদের ধান। গত রবিবার রাতে বুনিয়াদপুর ১ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণপুর হাইস্কুলের মাঠ থেকে ১২ বস্তা ধান লুট করে দুষ্কৃতীরা।
কিছুদিন আগে তোলা ও মাড়াই করা ধান শুকোনোর জন্য রাঙ্গাপুকুর, বেলকুরিয়া ও কৃষ্ণবাটী এলাকার প্রায় ৫০ জন কৃষক ওই মাঠে ধান রেখেছিলেন। অনেকে আবার সরকারি দরে ধান বেচার আশায় ধান বস্তাবন্দি করে মাঠেই রেখেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৪২ বস্তা ধান রেখেছিলেন স্থানীয় লুৎফর রহমানও। সোমবার সকালে মাঠ থেকে ধান আনতে গিয়ে দেখেন, সেখান থেকে ১২টি ধানের বস্তা উধাও। প্রায় পনেরো হাজার টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন লুৎফর। ইতিমধ্যে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
তাঁর কথায়, ‘আমার মতো অনেকেই নিরাপদ ভেবে ওই মাঠে ধান রেখেছিল। কিন্তু কোথায় কী? এখান থেকেও ধান চুরি হতে পারে, ভাবতে পারিনি। এখন কীভাবে ঋণ শোধ করব বুঝতে পারছি না। অনেক পরিমাণ ধানই বিক্রি করতে পারলাম না।’
ওই মাঠের পাশেই রায়গঞ্জগামী জাতীয় সড়ক। সারারাত গাড়িঘোড়ার যাতায়াত লেগেই থাকে। তাছাড়া ঢিল ছোড়া দূরত্বেই রয়েছে রাজ্য সড়কের ট্রাফিক পয়েন্টও। দিবারাত্র সিভিক ভলান্টিয়াররা মোতায়েন রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা শের মহম্মদ বলেন, ‘এই মাঠ থেকে চুরি হবে ভাবা যায় না। নিশ্চয়ই দুষ্কৃতীরা স্থানীয়। তাই সব দেখেশুনে, সুযোগ বুঝেই তারা এসেছিল। নাহলে, ১২ বস্তা ধান চুরি সিভিকদের চোখ এড়িয়ে কি হতে পারে?’
লাগাতার চুরির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এলাকাবাসীর মনে। তাঁদের সন্দেহ, দিনের পর দিন এলাকায় মাদকাসক্ত তরুণের সংখ্যা বাড়ছে। তারাই সংস্থানে টান পড়লে এধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। যদিও নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে পুলিশের দাবি। কিন্তু সাম্প্রতিককালে এলাকায় অপরাধ উত্তরোত্তর বাড়লেও পুলিশের সাফল্য বলে কিছু নেই। যার জেরে দুষ্কৃতীরা বিভিন্ন এলাকায় আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে এলাকাবাসীর দাবি।
স্থানীয় আরেক কৃষক আশরাফুল হক বলেন, ‘রাতে পুলিশি টহলদারি বলে কিছু নেই। কোনও দুষ্কৃতীই শেষপর্যন্ত ধরা পড়ে না। ওরকম এলাকাতে যদি তারা এতগুলি বস্তা ধান নিয়ে পালাতে পারে, তাহলে তো কোনও জায়গাতেই ফসল নিরাপদ নয়!’
ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিল বালুরঘাট থানার পুলিশ। মাঠের আশপাশের বাড়ি ও দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। এলাকায় আগামীতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলে পুলিশের দাবি। এবিষয়ে বুনিয়াদপুরের পুর প্রশাসক সমীর সরকার বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আশা করি, পুলিশ দ্রুত দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করবে। পুলিশকে বিভিন্ন এলাকায় টহলদারি বাড়াতে বলা হবে।’
