তমালিকা দে, শিলিগুড়ি: হাতেগোনা আর কয়েকদিন পরেই দুর্গাপুজো (Durga Puja)। মণ্ডপ থেকে প্রতিমা গড়ার প্রস্তুতি চলছে সব জায়গায়। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছোট পুজো কমিটিগুলির জন্য ১ লক্ষ টাকা করে অনুদান ঘোষণা করেছেন এবং বড় পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এরপর কলকাতার (Kolkata) একের পর এক বড় পুজো সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেছে যে, তারা এবার থেকে আর সরকারি অনুদান নেবে না। কলকাতার মতোই শিলিগুড়িতেও (Siliguri) বড় পুজো কমিটিগুলি বিজ্ঞাপন থেকে মোটা টাকা আয় করে। তবে অনুদান গ্রহণ নিয়ে শিলিগুড়ির অধিকাংশ পুজো কমিটি এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। সিংহভাগ ক্লাবেই এ ব্যাপারে আলোচনা হয়নি বলে জানা গিয়েছে। টাকার অঙ্ক অনেকটা হওয়ায় দোটানায় পড়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা।
সেন্ট্রাল কলোনির পুজো এবার ৬৪তম বর্ষ। বিশেষ আকর্ষণ ‘ভাস্কর্যের রূপকথা’। মণ্ডপসজ্জা থেকে আলোকসজ্জা— সবকিছুতেই থাকছে চমক। পুজোর বাজেট প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা। মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়ে চলতি বছর সরকারি অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা। পুজো কমিটির সম্পাদক পার্থ দে বলেন, ‘আমরা সরকারি অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
সেন্ট্রাল কলোনি অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও শহরের বাকি বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলির বেশিরভাগ এখনও মনস্থির করতে পারেনি। দাদাভাই ক্লাবের মাঠে সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের ভিড়ে গমগম করে মাঠ চত্বর। ইতিমধ্যেই সেখানে শুরু হয়ে গিয়েছে মণ্ডপ তৈরির কাজ। এবারের থিম ‘প্রথা’। পুজোর অনুদান নিয়ে এখনও কমিটির সদস্যদের মধ্যে আলোচনা হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
পাশেই সুব্রত সংঘের পুজোও বেশ জনপ্রিয়। প্রতিবছর নতুন থিমে দর্শকদের নজর কাড়ে এই পুজো। চলতি বছর ৬৯তম বর্ষে সুব্রত সংঘের থিম ‘আদিশক্তি’। এবার তাদের বাজেট ২০ লক্ষ টাকার নীচে। সরকারি অনুদান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কমিটির সম্পাদক রবীন্দ্রকুমার নাথ বলেন, ‘এবার বাজেট বেশি রাখা যায়নি। সরকারি অনুদান নেওয়া হবে কি না, সে ব্যাপারে এখনও আলোচনা হয়নি। অনুদানের পরিমাণ যেহেতু অনেকটা, তাই সবাই মিলে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
শক্তিগড় সর্বজনীন এবার ৭৫তম বর্ষে পা দিচ্ছে। এবারের আকর্ষণ রাজস্থানের হাওয়ামহলের আদলে মণ্ডপসজ্জা ও অডিও-ভিজুয়াল লেসার শো। প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা বাজেটে পুজো হচ্ছে। পুজো কমিটির সম্পাদক রথীন দে জানান, সরকারি অনুদান নেওয়া নিয়ে এখনও কোনও আলোচনা হয়নি।
শহরের অপর এক বড় পুজো সংঘশ্রী ক্লাবের। এবার হীরক জয়ন্তী বর্ষে তাদের থিম ‘অন্তরদর্শন’। ইতিমধ্যেই মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা বাজেটের এই পুজোয় সরকারি অনুদান নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও আলোচনা হয়নি বলে জানান কমিটির সদস্য শৈবাল দত্ত।

