শিলিগুড়ি: নিউ ফরাক্কার (New Farakka) কাছে রেললাইনে ধসের জেরে বাতিল হয়েছে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে চলাচলকারী একাধিক ট্রেন। আর সেই সুযোগে বাসের ভাড়া আকাশছোঁয়া করে দিয়েছেন বেসরকারি বাস মালিকরা। ভাড়ার নামে কার্যত লুট চলছে যাত্রীদের কাছ থেকে। অভিযোগ, ৩০০০ থেকে ৬০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। এমন অভিযোগ জোরদার হতেই আসরে নামল রাজ্য সরকার। এক্ষেত্রে বাড়তি বাস রাস্তায় নামানো হচ্ছে। যাতে যাত্রীদের বেসরকারি বাসে বাড়তি ভাড়া না গুনতে হয় তার জন্য যতগুলি প্রয়োজন ততগুলি বাস রাস্তায় নামানো হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ (Shankar Ghosh)। এর পাশাপাশি পরিবহণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন জানান যে, বেসরকারি বাসে নেওয়া বাড়তি ভাড়ায় যাতে রাশ টানা যায় সেই প্রচেষ্টা করছে পরিবহন দপ্তর।
উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীদের যাতে কোনওরকম সমস্যার মুখে পড়তে না হয়, সেই লক্ষ্যে শিলিগুড়ির (Siliguri) তেনজিং নর্গে বাসস্ট্যান্ডে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যার মধ্যে ইতিমধ্যেই কিছু বাস ছাড়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও বাস পরিষেবায় নামানোর প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
এদিন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শিলিগুড়ি জংশনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটন ও পরিষদীয় বিষয়ক মন্ত্রী ডাঃ শঙ্কর ঘোষ, পরিবহণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, শিলিগুড়ির মহকুমা শাসক বিকাশ রুহেলা সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা।
জংশনে যাত্রীদের সঙ্গে এদিন কথা বলেন তাঁরা। রেল পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় যাত্রীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেই বিষয়ে তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়। শংকর ঘোষ এবং আনন্দময় বর্মন উভয়েই জানান যে, চাহিদা অনুযায়ী বাসের যোগান দেওয়া হবে। ৩৫ থেকে ৪০টি সরকারি বাস কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার জন্য রেডি করে রাখা হয়েছে। যাত্রীদের প্রয়োজন হলেই সেই ৩৫ থেকে ৪০টি বাস চালু করা হবে। যার মধ্যে বেশ কয়েকটি বাস ইতিমধ্যেই কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।
তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তাঁরা এও দাবি করেন যে, তৃণমূল সরকারের শাসনকালে এই ধরনের ঘটনা ঘটলে রাজ্য সরকারের অস্তিত্ব পাওয়া যেত না। এক্ষেত্রে রাজ্য সরকার স্বতঃস্ফূর্তভাবে যাত্রী সাধারণের অসুবিধা যাতে না হয় সেদিকে নজর রাখছে।

