উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াকে ঘিরে স্টিং অপারেশন-কাণ্ডে এ বার নাম জড়াল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা জেডিএস নেতা এইচডি কুমারস্বামীর। বেঙ্গালুরু পুলিশের দাবি, ওই স্টিং অপারেশনে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি দিল্লিতে কেনা হয়েছিল এবং কুমারস্বামীর সরকারি বাসভবনেই সেটি হাতবদল হয়। যদিও অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে কুমারস্বামীর পাল্টা দাবি, তাঁকে ফাঁসাতেই রাজ্য সরকার চক্রান্ত করছে।
বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার সীমন্তকুমার সিং রবিবার জানিয়েছেন, ধৃত রিতেশ পান্ডের বয়ান অনুযায়ী, প্রজ্বল প্রসাদ নামে এক ব্যক্তির নির্দেশে স্টিং অপারেশনে ব্যবহৃত ফোনটি কেনা হয়েছিল। দিল্লিতে কুমারস্বামীর সরকারি বাসভবনে প্রজ্বল প্রসাদের হাতেই ফোনটি তুলে দেওয়া হয়। কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, বিনোদ শর্মা এবং রিতেশ পান্ডে দিল্লির করোল বাগের একটি দোকান থেকে ফোনটি কিনেছিলেন। পুলিশের দাবি, এই তিন জনই কুমারস্বামীর দফতরে কাজ করতেন।
সিদ্দারামাইয়ার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে গত সেপ্টেম্বর মাসে ইউটিউবে দু’টি ভিডিও আপলোড করা হয়েছিল। সেই স্টিং অপারেশনের ভিডিও সমাজমাধ্যমে আপলোড করার অভিযোগে গত ২৪ অক্টোবর দিল্লির বাসিন্দা রিতেশ পান্ডেকে গ্রেফতার করে বেঙ্গালুরু পুলিশের কেন্দ্রীয় অপরাধদমন শাখা (সিসিবি)। তাঁকে দিল্লি থেকে বেঙ্গালুরুতে নিয়ে এসে জেরা করা হচ্ছে।
কুমারস্বামীর সঙ্গে এই ঘটনার সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে কি না বা তাঁকে কোনও নোটিশ পাঠানো হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে পুলিশ কমিশনার জানান, তদন্ত এখনও চলছে। এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছোনোর সময় আসেনি।
অন্যদিকে, যাবতীয় অভিযোগ খারিজ করে কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প ও ইস্পাত মন্ত্রী কুমারস্বামী দাবি করেছেন, রাজ্য সরকার বা তাদের আধিকারিকেরা তাঁকে ‘স্পর্শও করতে পারবেন না’। তাঁর অভিযোগ, কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খড়্গে ষড়যন্ত্র করে তাঁকে সিদ্দারামাইয়ার স্টিং-কাণ্ডে ফাঁসাতে চাইছেন। জেডিএস-কে নিশানা করতেই তদন্তের অভিমুখ ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর। কুমারস্বামী বলেন, “আমরা এতে ভয় পাই না। এর মোকাবিলা করার ক্ষমতা আমাদের দলের রয়েছে।”
পাল্টা সরব হয়েছেন কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক। তাঁর দাবি, তদন্ত সঠিক পথেই এগোচ্ছে এবং বেশ কিছু প্রযুক্তিগত প্রমাণ ও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হাতে এসেছে। পদমর্যাদা বা প্রভাব নির্বিশেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। কুমারস্বামীর সঙ্গে কাজ করা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তি কেন তদন্তকারীদের সামনে হাজির হচ্ছেন না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রিয়াঙ্ক। তাঁর প্রশ্ন, “তদন্তে সহযোগিতা করতে বলা উচিত ছিল ওঁর (কুমারস্বামীর)। তিনি কেন তা করছেন না?”

