উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ (Awami League) সভানেত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) দেশে ফেরার ক্ষেত্রে আইনি কোনও বাধা নেই। তিনি আইনি পথেই দেশে প্রত্যাবর্তন করতে পারেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (Tribunal) চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। রবিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উচিত দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়া।
এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধে দলগতভাবে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা ছিল কিনা, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার পর ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হতে পারে।
এর আগে শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদও নিশ্চিত করেছেন যে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ওঠা মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চলছে এবং খুব শিগগিরই এর বিচার শুরু হবে। পাশাপাশি, চিফ প্রসিকিউটর জানান যে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর নাম যুক্ত করার পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয়। নিয়ম অনুযায়ী সাজা ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বিধান থাকলেও শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কোনো আপিল করা হয়নি। চিফ প্রসিকিউটর জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর আপিল আদালত এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন। তবে তিনি দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হলেই সেটি দেশের জন্য মঙ্গলজনক।
মাস দুয়েক আগে শেখ হাসিনা নিজেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তিনি চলতি বছরের মধ্যেই দেশে ফিরবেন। তবে কোন প্রক্রিয়ায় বা কবে ফিরবেন, তা স্পষ্ট করেননি। তাঁর এই ঘোষণার বিষয়ে বর্তমান তারেক রহমানের সরকার কিংবা চিফ প্রসিকিউটর আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
চিফ প্রসিকিউটর শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার আহ্বান জানালেও, তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়ে বর্তমান তারেক রহমানের সরকার এখনও ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক বা লিখিত কোনও নথিপত্র পাঠায়নি। এর আগে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার ভারতকে চিঠি দিলেও বর্তমান সরকার কেবল দ্বিপাক্ষিক আলোচনাতেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ রেখেছে।
এদিকে নয়া দিল্লির সরকারি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। ভারত সরকার মূলত হাসিনা ইস্যুকে পাশে সরিয়ে রেখে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বেশি আগ্রহী।

