উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: গোলপার্কের কাঁকুলিয়ায় সেই হাই-প্রোফাইল বোমা ও গুলি কাণ্ডের পর থেকেই তিনি ছিলেন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’। অবশেষে সেই দীর্ঘ লুকোচুরি খেলার অবসান ঘটল। সোমবার রাতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর গোয়েন্দারা গ্রেপ্তার করলেন সোনা পাপ্পু (Sona Pappu) ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারকে (Biswajit Poddar)। সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে টানা ১০ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস ম্যারাথন জেরা শেষে রাত ন’টা নাগাদ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ইডির তদন্তকারী সূত্রের খবর, সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি দুর্নীতি, আর্থিক তছরুপ ও কোটি কোটি টাকার জালিয়াতির একাধিক মামলা ছিল। এর আগে কেন্দ্রীয় সংস্থা তাঁকে পরপর পাঁচবার সমন পাঠালেও সুকৌশলে হাজিরা এড়িয়ে আসছিলেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন এক উচ্চপদস্থ কর্তা শান্তনু সিনহা এবং নামী প্রোমোটার জয় কামদার গ্রেপ্তার হতেই কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েন পাপ্পু। বেগতিক বুঝে সোমবার সকালে আচমকাই সস্ত্রীক সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দপ্তরে এসে হাজিরা দেন তিনি।
পাপ্পু ইডি অফিসে পা রাখতেই শোরগোল পড়ে যায় সিজিও কমপ্লেক্সে। গোয়েন্দারা কালবিলম্ব না করে তাঁকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা শুরু করেন। কিন্তু তদন্তকারীদের অভিযোগ, জেরার শুরু থেকেই চরম অসহযোগিতা করছিলেন এই মোস্ট ওয়ান্টেড। একের পর এক প্রশ্নের উত্তরে তার বয়ানে মারাত্মক অসঙ্গতি ধরা পড়ে এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত এদিন রাতেই তাঁকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেন ইডি আধিকারিকরা।
