উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: প্রবল বৃষ্টিতে কার্যত অচল বাণিজ্যনগরী (Mumbai Rains)। বিগত কয়েক ঘণ্টার একটানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে থানে, পালঘর এবং রায়গড় জেলায় জারি করা হয়েছে ‘রেড অ্যালার্ট’ (Crimson Alert)। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পুনে-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়ে (Pune-MumbaiExpressway) এবং পুরোনো জাতীয় সড়ক।
গত ২৪ ঘণ্টায় মুম্বই ও সংলগ্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও অতি ভারী বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোথাও বাড়ি ভেঙে পড়েছে, কোথাও উপড়ে পড়েছে বিশালাকার গাছ। কুরলায় রাস্তার ধারের দোকানের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে ইউনূস কুন্দ্রাওয়ালা (৬৩) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর পরিবারের জন্য বৃহন্মুম্বই পুরসভা ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে। সাকি নাকা এলাকায় একটি খোলা ম্যানহোলে পড়ে আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, যদিও তাঁর পরিচয় এখনও জানা যায়নি। অন্যদিকে, নবি মুম্বইয়ের খারঘরের পাণ্ডবকাড়া জলপ্রপাতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নামলে স্রোতের তোড়ে দুই যুবকের মৃত্যু হয়। মীরা রোড-ভায়ান্দর এলাকায় বাইক আরোহী যতীন বুন্দি (৩৬) নারকেল গাছ চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। লোহাগড় দুর্গের কাছে পাটন গ্রামে ধসের কারণে একটি পরিবার আটকে পড়েছে। সেখানে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সরাসরি প্রভাব পড়েছে যান চলাচলের ওপর। পুনে-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়ের একটি কংক্রিটের স্তম্ভ ভেঙে পড়ায় এবং বিকল্প রাস্তাগুলি জলমগ্ন হয়ে পড়ায় দুই দিক থেকেই যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সোমবার ভোর ৪টে থেকে কানেক্টিং লিঙ্ক রোডের টানেল-২-এর কাছে ধস নামায় সমস্ত যান চলাচল বন্ধ। এর ফলে ট্রাক ও বাসগুলিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রেল পরিষেবার অবস্থাও তথৈবচ। কারজাত ও লোনাভালার মাঝামাঝি দক্ষিণ-পূর্ব ঘাট সেকশনে ধস নামায় সেন্ট্রাল রেলের মুম্বই ডিভিশনের ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া-সহ অতি ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এই পরিস্থিতিতে মুম্বই, থানে এবং পালঘর এলাকার সমস্ত স্কুল-কলেজে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয় সোমবারের সমস্ত পরীক্ষা স্থগিত করেছে। নাগরিকদের অত্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন পুরকর্মীরা। তবে আকাশের যা পরিস্থিতি, তাতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

