উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর স্বচ্ছতা নিয়ে ফের বড়সড় অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মহিলাদের জন্য নির্ধারিত এই প্রকল্পে কীভাবে বেনোজল এবং ভুয়ো উপভোক্তাদের নাম ঢুকে পড়েছে, তা বোঝাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এক অভিযোগ করেছেন—মহিলাদের জন্য বরাদ্দ টাকা মাসে মাসে ঢুকছে পুরুষদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও। বুধবার নবান্নে নতুন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের (Annapurna Bhandar undertaking) ফর্ম প্রকাশের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়টি সামনে এনে প্রকল্পের বর্তমান তালিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের প্রাপকদের তালিকা সঠিকভাবে যাচাই না করার ফলেই এই ধরনের অসংগতি দেখা দিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বহরমপুরের শিয়ালমারা রাধারঘাট ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা রাকিবুল শেখ নামের এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এই পুরুষ উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকছে, যা এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ উপভোক্তা রয়েছেন, যার মধ্যে ৩০ লক্ষেরও বেশি নাম মৃত ব্যক্তি, অ-ভারতীয় নাগরিক কিংবা সম্পূর্ণ ভুয়ো উপভোক্তা।
সরকারি কোষাগারের অপচয় রুখতে এবং প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে সরকার এবার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন করে তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, নতুন ফর্মে আবেদনকারীদের থেকে পরিবারের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে, যাতে কেবল যোগ্য মহিলারা এই সুবিধা পান। এই কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বিডিও অফিস এবং বিধায়কদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ থেকে ১৭ তারিখ রাজ্যজুড়ে ‘জনকল্যাণ শিবির’-এর মাধ্যমে এই ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়া তদারকি করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভুয়ো ও অযোগ্য উপভোক্তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, বর্তমান তালিকায় থাকা প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো নাম অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে কমে যাবে। এর পাশাপাশি, স্বচ্ছতা বজায় রেখে আগামী দিনে যোগ্য পরিবারের মহিলাদের মাসিক ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি পুনরায় ব্যক্ত করেন। সরকারের লক্ষ্য হলো, নতুন এই প্রকল্পের মাধ্যমে কেবল মহিলাদের সহায়তা নিশ্চিত করাই নয়, বরং রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
