নিউজ ব্যুরো: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো (Durga Puja 2026)। পুজোর দিনগুলিতে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে প্রতিমা দর্শন, শিল্পের ছোঁয়ায় মণ্ডপসজ্জা আর নতুন ভাবনার উদযাপন— সব মিলিয়ে উৎসবের আনন্দ যেন ছুঁয়ে যায় উত্তরবঙ্গের প্রতিটি প্রান্তকে। সেই আনন্দে আরও এক মাত্রা যোগ করেছে ‘উত্তরবঙ্গ সংবাদ শারদ সম্মান’ (Sharad Samman)। উত্তরবঙ্গের (North Bengal) সাত জেলার প্রতিটি থেকে সেরা তিনটি পুজো এবং কম বাজেটের সেরা পুজোকে বেছে নিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে। প্রতিমা, মণ্ডপসজ্জা, আলোকসজ্জা, শৈল্পিক ভাবনা ও সমাজ সচেতনতাকে বিচার করে বিজয়ীদের বেছে নিয়েছেন বিচারকরা।
শিলিগুড়ি শহর ও গ্রাম মিলিয়ে এবার পুজোর আয়োজন ছিল নজরকাড়া। বিচারক সুব্রত লাহিড়ি, শুভ্রজ্যোতি কুণ্ডু ও উজ্জয়িনী মুখোপাধ্যায় দেব মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে সেরাদের বেছে নেন। নারীদের নিয়ে যেসব তথাকথিত ‘প্রথার’ চল রয়েছে সমাজে, সেগুলিকেই ফুটিয়ে তুলে নজর কেড়ে দার্জিলিং জেলায় প্রথম হয়েছে দাদাভাই স্পোর্টিং ক্লাব। দ্বিতীয় রথখোলা স্পোর্টিং ক্লাব এবং তৃতীয় মিলনপল্লি সর্বজনীন পুজো কমিটি। কম বাজেটের সেরা যুব সম্প্রদায় খড়িবাড়ি। মহাষ্টমীর বিকেলে উত্তরবঙ্গ সংবাদ অফিসে তাঁদের হাতে পুরস্কার ও স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকার প্রাসাদকে তুফানগঞ্জের মাটিতে নিয়ে এসেছিল ন্যাশনাল ক্লাব দুর্গাপুজো কমিটি। কোচবিহারে ৩৮টি পুজো কমিটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল ঠিকই, তবে অধ্যাপক অঙ্কিতা মুখোপাধ্যায়, চিকিৎসক ও নাট্যকার অশোক ব্রহ্ম এবং চিত্রশিল্পী মৌমিতা বণিকের নজর কেড়ে নিয়েছে সেই ন্যাশনালের আয়োজনই। জেলায় দ্বিতীয় হয়েছে তুফানগঞ্জেরই জিগনিতলা ক্লাব এবং তৃতীয় মাথাভাঙ্গার দক্ষিণপাড়া শ্রীশ্রী দুর্গোৎসব কমিটি। কম বাজেটের সেরা পুজোর তকমা পেয়েছে কোচবিহার নিউটাউন ইউনিট। মহাষ্টমীতে কোচবিহার শহরের ব্রাহ্ম মন্দির প্রাঙ্গণে বিজয়ীদের ট্রফি ও চেক দেওয়া হয়।
দুর্গাপুজো মানে শুধু উৎসব নয়, আপামর বাঙালির মনের কলুষ মিটে যায় এই আয়োজনে। সেই আত্মশুদ্ধির কথাই তাদের আয়োজনে তুলে ধরে আলিপুরদুয়ার জেলার সেরা পুজোর সম্মান ছিনিয়ে নিয়েছে ফালাকাটার মাদারি রোড সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। সোমা দে, অসীম সাহা ও শুক্লা সরকার সেনগুপ্তের বিচারে দ্বিতীয় হয়েছে আলিপুরদুয়ার দুর্গাবাড়ি এবং তৃতীয় বারোবিশা সুভাষপল্লি ইউনিট। কম বাজেটের সেরা আলিপুরদুয়ার চৌপথি দুর্গোৎসব কমিটি। মহাষ্টমীতে উত্তরবঙ্গ সংবাদের জেলা অফিসে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কারমূল্য তুলে দেওয়া হয়।
জলপাইগুড়িতে মণ্ডপসজ্জা, প্রতিমা, আলোকসজ্জা ও পরিবেশ সচেতনতার নিরিখে প্রতিযোগিতা ছিল জোরদার। সেরার শিরোপা ছিনিয়ে নিয়েছে মালবাজারের আবলুম ট্যালেন্টেড অর্গানাইজেশন, দ্বিতীয় পাতকাটা কলোনি অগ্রণী সংঘ ও পাঠাগার এবং তৃতীয় জলপাইগুড়ির দেশবন্ধুপাড়ার দিশারি। কম বাজেটের সেরা দক্ষিণ বামনপাড়ার পূর্বাঞ্চল সংঘ ক্লাব ও পাঠাগার। বিচারক ছিলেন লেখক গৌতম গুহরায়, আনন্দচন্দ্র কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রসাদ রায় এবং নাট্যকর্মী দীপঙ্কর রায়।
মণ্ডপের নির্মাণে পরিবেশবান্ধব সামগ্রীর ব্যবহারে সচেতনতার বার্তা দিতে চেয়েছিল মালদা জেলার ইংরেজবাজারের সর্বজয়ী ক্লাব। তাদের সেই চেষ্টা মন ছুয়ে গিয়েছে বিচারকদের। অষ্টমীর দুপুরে মালদা শহরের নেতাজি মোড়ের উত্তরবঙ্গ সংবাদ অফিসে যখন উদ্যোক্তাদের হাতে সেরা পুজোর পুরস্কার তুলে দেন বিচারক প্রদ্যুৎ মজুমদার, বিদ্যুৎ কর্মকার ও পার্থসারথি নাথ, তখন তাঁদের আনন্দ দেখে কে! সেখানে দ্বিতীয় হয়েছে ইংরেজবাজারেরই আমরা সবাই ক্লাব এবং তৃতীয় গাজোলের ব্ল্যাক ডায়মন্ড ক্লাব। কম বাজেটের সেরা পুজো পুরাতন মালদার মঙ্গলবাড়ি ঘোষপাড়ার নবাগত ক্লাব।
আমাদের ব্যস্ত জীবনযাপনে পোস্ট বাক্স, চিঠি, রানারদের আর গুরুত্ব নেই। পুজোয় ঠাকুর দেখার মাঝে ডাকঘর থিমে সেই নস্টালজিয়ার স্বাদ দিয়েছিল বালুরঘাটের চকভৃগু প্রগতি সংঘ। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সেরা পুজো হয়েছে তারাই। সাহিত্যিক ও শিক্ষক সনাতন পাল, দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক রিপন সাহা এবং গঙ্গারামপুরের শিক্ষক ও সাহিত্যিক জয়ন্ত আচার্যর বিচারে দ্বিতীয় গঙ্গারামপুর ফুটবল ক্লাব এবং তৃতীয় বালুরঘাটের সৃজনী সংঘ ও লাইব্রেরি। কম বাজেটের সেরা পতিরাম অরবিন্দপল্লি দুর্গাপুজো সমিতি।
উত্তর দিনাজপুরে প্রথম হয়েছে ইসলামপুরের আদর্শ সংঘ। দ্বিতীয় রায়গঞ্জের অনুশীলনী এবং তৃতীয় অরবিন্দ স্পোর্টিং ক্লাব। কম বাজেটের সেরা ইসলামপুরের ক্ষুদিরামপল্লির আমরা সবাই পুজো কমিটি। ১৯ অক্টোবর রায়গঞ্জের মোহনবাটীর একটি বেসরকারি ভবনে পুরস্কার দেওয়া হয়। বিচারক আলোকচিত্রশিল্পী বাসুদেব চক্রবর্তী, নাট্যব্যক্তিত্ব হিরণ্ময় দত্ত চৌধুরী ও চারুশিল্পী বিশ্বজিৎ রায় ছাড়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অতনুবন্ধু লাহিড়িও।

