Serbia’s pupil motion | ছাত্র আন্দোলনের ঢেউ, সার্বিয়ায় ভুচিচের শাসন উৎখাত করে ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’-এর অভাবনীয় জয়

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আন্তর্জাতিক রাজনীতির আঙিনায় এক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী থাকল বলকান উপদ্বীপের ক্ষুদ্র ল্যান্ডলকড দেশ সার্বিয়া (Serbia’s pupil motion)। দীর্ঘ এক দশক ধরে দেশের মসনদ সামলানো প্রভাবশালী প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ (Aleksandar Vucic) এক অভূতপূর্ব ছাত্র আন্দোলনের মুখে নিজের পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন। প্রাথমিক নির্বাচনি ফলাফল প্রকাশের পর রবিবার টিভিতে দেওয়া এক ভাষণে ভুচিচ স্বীকার করে নেন যে, ২৫০ আসনের জাতীয় সংসদে তাঁর সার্বিয়ান প্রোগ্রেসিভ পার্টি ১০৫টি আসন পেতে পারে, অন্যদিকে ছাত্র আন্দোলন সমর্থিত ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসনে জয়ী হয়ে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে চলেছে।

২০২৪ সালে সার্বিয়ার একটি রেল স্টেশনের ছাউনি ভেঙে ১৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া টানা দুই বছরের তীব্র জনরোষ ও ছাত্র আন্দোলনের ওপর ভর করেই এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটেছে। ভুচিচের পরাজয়ের খবর ছড়াতেই বেলগ্রেডের রাস্তায় রাজপথে নেমে উল্লাসে মেতে ওঠেন হাজার হাজার মানুষ।

২০০৬ সালে মন্টেনেগ্রো এবং সার্বিয়া পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ইউরোপের বলকান অঞ্চলের স্থলভাগে ঘেরা ছোট দেশ সার্বিয়ার জনসংখ্যা মাত্র ৬৬ লক্ষ। ফ্রান্সের ক্রেতিলের লাইসি সাঁ-এক্সুপেরির শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমের অভাব ও জীর্ণ পরিকাঠামোর প্রতিবাদ দিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনে গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবরের সপ্তাহান্তে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিলেন, যদিও আয়োজকদের মতে তা ছিল আট লাখ। ইতালিতে ১৬ ও ২৪ অক্টোবরের শিক্ষা বাজেট কমানো এবং বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সীমার প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিলাানে অগ্নিগর্ভ রূপ নেয়। আলবেনিয়ার তিরানায় গত ১৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী এডি রামোর পদত্যাগের দাবিতে কয়েক হাজার তরুণ বিক্ষোভ করেন, যেখানে জারড কুশনারের বিতর্কিত উপকূলীয় প্রকল্প ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পুলিশি দমনপীড়ন দেখা যায়। এছাড়া জার্মানি, অস্ট্রিয়া এবং গ্রিসেও বাসস্থান ও শিক্ষা ব্যয়ের দাবিতে বিক্ষোভ চলছে।

ভারতীয় উপমহাদেশেও এই তরুণ তুর্কিদের আন্দোলনের রেশ সুদূরপ্রসারী। ২০২৬ সালে নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে প্রায় ২০ লাখ প্রার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়লে ছাত্র সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে ওঠে। দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা আন্দোলনের পর গত ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তবে সার্বিয়ার ক্ষেত্রে এই রাজপথের লড়াই সরাসরি ব্যালট বাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ পার্টি সরাসরি কোনো শিক্ষার্থীকে প্রার্থী করেনি, বরং নাগরিক সমাজের ২৫০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি, বুদ্ধিজীবী, অভিনেতা ও কৃষককে টিকিটে দাঁড় করিয়েছিল। এই নতুন জোটের মূল মুখ হলেন ৫৬ বছর বয়সী হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ তথা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ইলিয়া সর্দানোভিচ। রাষ্ট্র পরিচালনায় চিন, রাশিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে সার্বিয়ার আইন-শৃঙ্খলা উদ্ধার ও দুর্নীতি দূরীকরণের নতুন চ্যালেঞ্জ এখন এই জয়ী যুবশক্তির সামনে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *