উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই বরানগরের রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড়। বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের ডাকা পুরসভার উন্নয়নমূলক বৈঠকে যোগ দিলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়। নির্বাচনের ঠিক আগেই যেখানে সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারে সৌগত রায়কে দেখা গিয়েছিল, সেখানে জয়ী বিজেপি বিধায়কের বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে (Saugata-Sajal Ghosh’s Assembly)।
কেন এই বৈঠক? বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে সৌগত রায় জানান, এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যেই তিনি এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁর কথায়, “এলাকায় কোথায় কী ধরণের উন্নয়ন প্রয়োজন, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বর্ষা আসার আগে জল জমার সমস্যা ও থমকে থাকা রাস্তাঘাটের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন বিধায়ক। মানুষের প্রত্যাশা বাড়ছে, তাই বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ নিয়ে তাঁরা বিধায়কের দ্বারস্থ হচ্ছেন।”
সাংসদের উপস্থিতির বিষয়ে সজল ঘোষ বলেন, “বরানগরে পাহাড় প্রমাণ সমস্যা। জল নেই, রাস্তা নেই, ঠিকাদার পালিয়ে গিয়েছেন। আগের সরকারের জমানায় প্রচুর অনিয়মের কারণে এবং বকেয়া পেমেন্ট সংক্রান্ত জটিলতায় নতুন সরকার অনেক কাজে এমবার্গো (নিষেধাজ্ঞা) দিয়েছে।” সজল আরও যোগ করেন, “আগের সরকার কাজ ঠিকঠাক করলে আমাদের ৩ ঘণ্টার বৈঠক করতে হতো না, সাংসদকেও ডাকতে হতো না। এগুলো বিধায়কের কাজ নয়, কিন্তু এলাকার স্বার্থে আমাকেই এই দায়িত্ব নিতে হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বরানগর কেন্দ্র থেকে সজল ঘোষের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তৃণমূলের তারকা প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনে সায়ন্তিকার হয়ে জোরকদমে প্রচার করেছিলেন সৌগত রায়। কিন্তু ফলপ্রকাশের পর সজল ঘোষের জয়ী হওয়ার পর, বিজেপি বিধায়কের ডাকে তৃণমূল সাংসদের এই উপস্থিতি বরানগরের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
