নদী থেকে কার্যত নালা হয়ে ওঠা সরস্বতী নদী ক্রমশও দূষিত হয়ে পড়ছে। ভাগীরথীর মত পুরোনো ঐতিহাসিক এই নদীতে যে দূষণ মাত্রাছাড়া হয়েছে তার প্রমাণ মিলল আরও একবার। আচমকাই ফুটতে শুরু করল জল! সঙ্গে উঠল বুদবুদ। যাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল হাওড়ার ডোমজুড় এলাকায়। ভান্ডারদহ ব্রিজের নীচ দিয়ে বয়ে গিয়েছে সরস্বতী নদী। সেখানকার জলেই অস্বাভাবিক বুদবুদ উঠতে দেখা যায়। নদীর জলকে দেখে মনে হয়, জল কার্যত ফুটছে। একই সঙ্গে নদীর জল থেকে ছড়িয়ে পড়েছে কটু গন্ধ। খবর পেয়ে নদীর পাড়ে ভিড় করেন বহু স্থানীয় বাসিন্দা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
সরস্বতী নদী বাঁচাও কমিটির সম্পাদক বাপি ঠাকুর বললেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে এই নদীর কোনও সংস্কার হয়নি। প্রতিনিয়ত নদীতে দূষণের মাত্রা বেড়ে চলেছে। পচা পাঁকে অনেকসময় নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেনের মত গ্যাস তৈরি হয়। সেই বিষাক্ত গ্যাস থেকেই এই বুদবুদ উঠছে বলে মনে হচ্ছে।’’
আরও পড়ুন:
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে নদীর একটি অংশে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জলের উপরিভাগে বুদবুদ উঠতে দেখা যায়। পরে যদিও ধীরে ধীরে সেই বুদবুদ কমে যায় এবং একসময়ে বন্ধও হয়ে যায়। পূজা পাল নামে নদীর ধারে থাকা অপর এক মহিলা বাসিন্দা বললেন, ‘‘এই প্রথম আমরা জলে এভাবে বুদবুদ কাটতে দেখলাম। সরস্বতী নদীর জলে নোংরা, আবর্জনা কারখানার অ্যাসিড জল এসে মিশছে। যার জেরেই এমন পরিস্থিতি হচ্ছে।’’ স্থানীয় বাসিন্দা বরুন নস্কর বললেন, ‘‘সরস্বতী নদীতে ব্যাপক দূষণ হচ্ছে। যার জেরেই গ্যাস তৈরি হয়ে বুদবুধ কাটছে ও গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে।’’
এই প্রসঙ্গে ডোমজুড়ের বাসিন্দা সরস্বতী নদী বাঁচাও কমিটির সম্পাদক বাপি ঠাকুর বললেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে এই নদীর কোনও সংস্কার হয়নি। প্রতিনিয়ত নদীতে দূষণের মাত্রা বেড়ে চলেছে। পচা পাঁকে অনেকসময় নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেনের মত গ্যাস তৈরি হয়। সেই বিষাক্ত গ্যাস থেকেই এই বুদবুদ উঠছে বলে মনে হচ্ছে।’’ বাপি ঠাকুরের কথায়, ‘‘সরস্বতী নদী আর নদী নেই। নালায় পরিণত হয়েছে। সাঁকরাইল থেকে ত্রিবেণী পর্যন্ত ৭৭ কিলোমিটার সরস্বতী নদীর সিংহভাগই মজে গিয়ে নালায় পরিণত হয়েছে। কোথাও কোথাও আবার সরু ড্রেন হয়ে গিয়েছে। প্রশাসন, সেচ দপ্তর ও নদীর পাড়ে থাকা স্থানীয় মানুষের বছরের পর বছর উদাসীনতার জন্যই সরস্বতী নদীর আজ এই অবস্থা। সরস্বতী নদীতে আর মাছ জন্মায় না। নদীর জল থেকে চাষআবাদ হয় না। নদীর জল এতটাই বিষাক্ত হয়ে পড়েছে যে শিয়ালও এই জল খেয়ে মরে যায়।’’

প্রসঙ্গত, ভাগীরথীর থেকেও পুরানো সরস্বতী নদীর তীরে প্রচুর প্রাচীন স্থাপত্যর প্রমাণ মিলেছে। একসময়ের প্রাচীন সপ্তগ্রাম বন্দর এই সরস্বতী নদীর তীরেই অবস্থিত ছিল। মানবসভ্যতার নগরায়নে দূষণের জেরে মজতে মজতে সরস্বতী নদী কার্যত ইতিহাস হয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
