উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Election Outcome 2026) ফের পুরোনো আসন ফিরে পেয়েছেন বিজেপির ‘দাবাং’ নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। খড়গপুর সদর (Kharagpur Sadar)আসন থেকে ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। আর স্বামীর এই সাফল্যে খুশিতে আত্মহারা স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার (Rinku Majumdar)। উচ্ছ্বসিত রিঙ্কুর সাফ কথা, ‘এটাই আমার বিয়ের সেরা রিটার্ন গিফট।’
রাজ্যে বিজেপির উত্থানের অন্যতম কারিগর দিলীপ ঘোষ গত কয়েক বছরে কিছুটা কোণঠাসা ছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা ছিল। এর মাঝে আচমকাই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় দলের একাংশের বিরাগভাজন হলেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন এই পোড়খাওয়া নেতা। তবে বিধানসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার করতে দিলীপের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে ভুল করেনি গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব। তাই শেষমেশ তাঁর পছন্দের খড়গপুর সদর থেকেই তাঁকে প্রার্থী করা হয়।
ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা গেল, খড়গপুরের মানুষের মনে দিলীপ ঘোষের জনপ্রিয়তা বিন্দুমাত্র কমেনি। বিশাল ব্যবধানে জয়ের পর খুশির হাওয়া ঘোষ পরিবারে। তবে দিলীপ নিজে বরাবরের মতোই অবিচল। নতুন সরকারে তাঁর মন্ত্রিত্ব পাওয়া নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে থাকলেও তিনি এখনই মুখ খুলতে নারাজ। তাঁর কথায়, ‘দল আমাকে বিধায়ক হওয়ার টিকিট দিয়েছিল, আমি জিতে সেই আসন দলকে ফিরিয়ে দিয়েছি।’
দিলীপের এই বিশাল জয়কে তাঁদের বিয়ের সবথেকে বড় ‘রিটার্ন গিফট’ হিসেবে দেখছেন তাঁর স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার। জয়ের পরদিন সকাল থেকেই তাঁদের বাংলোতে কর্মী-সমর্থকদের মিষ্টিমুখ করান তিনি। রিঙ্কু বলেন, ‘আমি পজিটিভ ছিলাম। খড়গপুরবাসীর এই ভালোবাসা সত্যিই বড় প্রাপ্তি।’ তবে স্বামী মন্ত্রী হবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত দলের ওপর এবং ‘উপরওয়ালার’ ওপর ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। নিজের টিকিট পাওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ককেও হেসেই উড়িয়ে দেন তিনি। অন্যদিকে, স্ত্রীর ‘রিটার্ন গিফট’ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের কণ্ঠে শোনা গেল স্বভাবসিদ্ধ রসিকতা। তিনি হালকা মেজাজে বলেন, ‘আমি গিফট দেব তাদের, যারা আমাকে জিতিয়েছে।’ এবার বাংলায় সরকার গড়তে চলা বিজেপির ক্যাবিনেটে দিলীপ ঘোষের জায়গা হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
