বার্নপুর: রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলের সঙ্গে সঙ্গেই পশ্চিম বর্ধমানের শিল্পনগরী বার্নপুরে শুরু হয়েছে অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদের অভিযান। সোমবার আসানসোল পুরনিগমের ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর কাঞ্চন মুখোপাধ্যায়ের অফিস বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলল সেল (SAIL Demolition TMC Workplace) আইএসপি কর্তৃপক্ষ। ইস্পাত কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, কারখানা চত্বরের নিজস্ব জমিতে এই অফিসগুলি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তৈরি করা হয়েছিল।
আইএসপি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই কারখানা কর্তৃপক্ষের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণ সরিয়ে নেওয়ার জন্য একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পূর্ববর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজেদের জমি উদ্ধারে সক্রিয় হয়েছে। গত কয়েকদিনে কাউন্সিলর অশোক রুদ্রের অফিসসহ একাধিক তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় একই প্রক্রিয়ায় ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
নিজের অফিস ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় তৃণমূল কাউন্সিলর কাঞ্চন মুখোপাধ্যায় বলেন, “জনগণের স্বার্থে কাজ করার উদ্দেশ্যেই এই কার্যালয়টি তৈরি করা হয়েছিল। রবিবার বিকেলে আইএসপি কর্তৃপক্ষ হঠাৎ এসে অফিস খালি করার নির্দেশ দেয়। আমি জিনিসপত্র সরানোর জন্য ৩-৪ দিনের সময় চেয়েছিলাম। কিন্তু এদিন সকালেই বুলডোজার দিয়ে অফিসটি ভেঙে দেওয়া হয়।” তবে সরকারি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কোনো ক্ষোভ প্রকাশ করেননি তিনি। কাঞ্চনবাবু সাফ জানিয়েছেন, “বাংলার সরকার যদি উন্নয়নের স্বার্থে কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে আমি সরকারের পাশে আছি। আইএসপি কর্তৃপক্ষ বা সরকারের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই।”
অন্যদিকে, সেল আইএসপি কর্তৃপক্ষের সাফ কথা, কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, বরং নিয়ম মেনেই কারখানার নিজস্ব জমিতে থাকা সমস্ত অবৈধ নির্মাণ ভেঙে জমি উদ্ধার করা হচ্ছে।
শিল্পনগরীর বুকে পরপর তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় ভাঙার এই ছবি ঘিরে এলাকায় যেমন চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, তেমনই সরকারের উন্নয়ন নীতির সমর্থনে তৃণমূল কাউন্সিলরের এমন মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
