উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা। বুধবার বারামতীতে অবতরণের সময় বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী (Maharashtra Deputy CM) অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar Dying)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। দক্ষ প্রশাসক এবং বারামতীর অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে তাঁর এই আকস্মিক প্রস্থান মারাঠা রাজনীতির সমীকরণ আমূল বদলে দিল।
রাজনৈতিক জীবন ও উত্থান
১৯৫৯ সালের ২২ জুলাই আহমেদনগর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন অজিত পাওয়ার। কাকা শরদ পাওয়ারের হাত ধরে আশির দশকে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ১৯৮২ সালে সমবায় আন্দোলনের মাধ্যমে জনজীবনে তাঁর প্রবেশ। ১৯৯১ সালে পুণে জেলা সমবায় ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান হিসেবে টানা ১৬ বছর দায়িত্ব সামলান তিনি। সমবায় ও গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর তাঁর অগাধ দখলই তাঁকে পরবর্তীকালে রাজ্যের অন্যতম শক্তিশালী নেতায় পরিণত করেছিল।
বারামতীর অজেয় ‘সারথি’
১৯৯১ সালে লোকসভা নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদীয় রাজনীতি শুরু করলেও, কাকার জন্য আসন ছেড়ে দিয়ে তিনি রাজ্য রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন। ১৯৯১ সাল থেকে টানা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বারামতী বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। ২০২৪ সালের নভেম্বরেও তিনি এক লক্ষেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে অষ্টম বার বিধায়ক নির্বাচিত হন।
ক্ষমতার অলিন্দে এবং বিতর্ক
মহারাষ্ট্রের অর্থ, সেচ ও জলসম্পদ দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক সামলেছেন অজিত পাওয়ার। তবে তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে ২০১৯ সালের সেই ‘ভোরবেলা’র শপথগ্রহণ এবং ২০২৩ সালে এনসিপি (NCP) ভেঙে এনডিএ জোটে যোগ দেওয়ার ঘটনায়। ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর তিনি ষষ্ঠবারের মতো উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে নিজের রাজনৈতিক আধিপত্য প্রমাণ করেছিলেন।
শেষ সফর
কর্মতৎপরতা এবং কড়া মেজাজের জন্য পরিচিত এই জননেতা জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সরকারের কাজে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোট রাজনীতির এই আবহে অজিত পাওয়ারের অনুপস্থিতি মহারাষ্ট্রের আগামী দিনের ক্ষমতায়ন ও সমীকরণে এক বিশাল প্রভাব ফেলবে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রেখে গিয়েছেন।
