RSS camp | জেনকিন্সে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শিবির ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে, ক্ষোভ প্রাক্তনীদের

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


গৌরহরি দাস, কোচবিহার: কোচবিহারের (Cooch Behar) জেনকিন্স স্কুলে (Jenkins College) রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) শিবিরকে (RSS camp) কেন্দ্র করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ টানা নয়দিনের জন্য আরএসএস-কে কেন শিবির করার অনুমতি দিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ জেনকিন্স স্কুলের একাধিক শিক্ষক, প্রাক্তনী থেকে শুরু করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, আরএসএস খাতায়-কলমে অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও বিজেপির সঙ্গে তাদের সরাসরি যোগ রয়েছে। ফলে এই ধরনের শিবিরের জেরে জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্কুলের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। যদিও জেনকিন্স স্কুলের টিআইসি জ্যোতিষচন্দ্র রায়ের সাফাই, ‘কেন অনুমতি দেওয়া যাবে না? এরা সমাজসেবক। সমাজের স্বার্থে কাজ করে। তাই অনুমতি না দেওয়ার কোনও কারণ নেই।’

বুধবার থেকে জেনকিন্স স্কুল প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে আরএসএসের শিবির, যা চলবে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত। শিবিরের জন্য স্কুলের মাঠের মাঝে ছোট মঞ্চ করা হয়েছে। সেখানে জ্বলজ্বল করছে আরএসএসের ফ্লেক্স। পাশেই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের ছবি। স্কুলের সীমানা প্রাচীর থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় গেরুয়া পতাকা লাগানো হয়েছে। আরএসএসের কর্মীরা জানান, শিবিরে মোট ৫০০ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। যার মধ্যে ৪৫০ জন জেলার বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থী আর বাকি ৫০ জন সংগঠনের কর্মকর্তা। শিবির চলাকালীন স্কুলের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা থাকবেন।

আরএসএসের এই শিবিরকে ঘিরে শহরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। জেনকিন্স স্কুলের প্রাক্তনী তথা জেনকিন্স অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আনন্দজ্যোতি মজুমদার বলেন, ‘আমাদের স্কুলে এ ধরনের কর্মসূচি মেনে নিতে পারছি না। মানসিকভাবে খুব আঘাত পেয়েছি। আমরা টিআইসি এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তথা জেলা শাসকের কাছে জানতে চাইব, এখানে আরএসএস-কে শিবির করার অনুমতি তাঁরা কীভাবে দিলেন?’

স্কুলের আর এক প্রাক্তনী তথা কংগ্রেসের জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ সরকারের কথায়, ‘আরএসএস যে বিজেপির মূল চালিকাশক্তি, তা কারও অজানা নয়। কোচবিহারবাসীর আবেগ নিয়ে ছেলেখেলা করা হচ্ছে। আগে কোনও সরকার জেনকিন্স স্কুলে এই ধরনের কাজ করেনি।’ সিপিএমের জেলা সম্পাদক অনন্ত রায় বলেন, ‘জেনকিন্স স্কুলে এ ধরনের ঘটনা ভাবতেই পারছি না। এই সরকার গণতন্ত্র মানে না। মানুষের আবেগের কোনও মূল্য তাদের কাছে নেই। এরা স্কুলের সম্মানকে ভূলুণ্ঠিত করতে এটা করছে, যা গণতন্ত্রের পক্ষে খুবই বিপজ্জনক।’

বিষয়টি নিয়ে তীব্র আপত্তি প্রকাশ করেছেন জেনকিন্স স্কুলের একাধিক শিক্ষক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষকের কথায়, ‘জেনকিন্সের মতো রাজ্যের নামকরা স্কুলে এ ধরনের কর্মসূচি হওয়ায় নিজেদের খুব ছোট লাগছে। মনে হচ্ছে যেন স্কুলের দেড় শতাধিক বছরের সম্মানটাকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হল।’

যদিও বিজেপির দাবি, আরএসএস রাজনৈতিক সংগঠন নয়। তাছাড়া শিবিরের জন্য পঠনপাঠনের ক্ষতি হচ্ছে না। স্কুল এখন বন্ধ আছে। দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ‘এটা কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। আর স্কুলের পঠনপাঠন বন্ধ করে শিবির করা হচ্ছে না। আরএসএস দেশের হিতে কাজ করে। ফলে এতে সমস্যার কিছু দেখছি না।’ পালটা ফরওয়ার্ড ব্লকের জেলা সম্পাদক অক্ষয় ঠাকুর বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী জেনকিন্স স্কুলে এ ধরনের কর্মসূচি সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *