‘স্বামীর জন্য উপোস করলেই পিতৃতন্ত্র আর নারীবাদের যুক্তি’, করবা চৌথ নিয়ে কোন আক্ষেপ ‘গোপী বহু’ দেবলীনার?

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


মুসলিম ধর্মাবলম্বী প্রেমিক শাহনওয়াজ শেখকে বিয়ে করে ধর্মনিরপেক্ষ দেশে কটাক্ষের শিকার হয়েছিলেন বঙ্গতনয়া দেবলীনা ভট্টাচার্য। জুটেছিল ‘লাভ জেহাদ’ অপবাদও। নিন্দুকদের বিষোদগারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সুখী ঘরকন্না দেবলীনা। মায়ানগরীর সিনেপাড়ায় লক্ষ্মীবারে করবা চৌথের ব্রত পালন করছেন গৃহলক্ষ্মীরা। সাবেক সাজে স্বামীর মঙ্গল কামনায় নির্জলা উপবাস বিটাউন অভিনেত্রীদের। বিদেশের মাটিতে দেশীয় সংস্কৃতি পালন করছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, প্রীতি জিন্টারা। কিন্তু, করবা চৌথের শুভেচ্ছা জানিয়েও নিজে পালন করলেন না বঙ্গললনা দেবলীনা ভট্টাচার্য।

বহু বাঙালি সেলেব এই রীতি পালন করলেও দেবলীনার যুক্তি, এটা বাঙালি সংস্কৃতি নয়। আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, তাঁর পক্ষে পুরো দিন নির্জলা থাকা অসম্ভব। এক্স হ্যান্ডলে করবা চৌথের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, ‘আমি কখনও করবা চৌথের উপবাস রাখিনি। কারণ বাঙালি ও অসমীয়া সংস্কৃতিতে এই রীতির প্রচলন নেই। আমাদের হয়তো সব রকমের আচার-অনুষ্ঠান নেই, কিন্তু আমরা প্রতিটি উৎসবই প্রাণভরে উদ্‌যাপন করি। তাহলে করওয়া চৌথ পালন করতে বাধা কোথায়? সত্যি বলতে কোনও একদিন এই উপবাস রাখার ইচ্ছে আছে। কিন্তু সারাদিন জল না খেয়ে থাকতে পারব কি না সেই ভয়েই পিছিয়ে যাই! আমি প্রতি সোমবার উপোস করি। মাঝেমধ্যে একাদশীও করি। কিন্তু জল না খেয়ে উপোস করাটা একেবারে অন্য ব্যাপার।’

আরও পড়ুন:

আরও লেখেন, ‘আমার সত্যিই মনে হয় অনেক দম্পতির কাছে এই উৎসব ভালোবাসা প্রকাশের একটা সুন্দর মাধ্যম। আমি অনেক মহিলাকে খুব আনন্দের সঙ্গে করবা চৌথ পালন করতে দেখেছি। আর আজকাল তো অনেক স্বামীও তাঁদের স্ত্রীর সঙ্গে একসঙ্গে উপবাস করেন। তাহলে অন্যের আনন্দের মধ্যে নারীবাদ, পুরুষতন্ত্র আর বিচার-বিশ্লেষণ টেনে আনার কী দরকার? তুমি এই রীতিতে বিশ্বাস করো না? নাই করতে পারো। তাতে তো কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু অন্য কেউ আনন্দ করে কোনও উৎসব পালন করলে তার আনন্দটা নষ্ট করার কী দরকার?’

দেবলীনার যুক্তি, ‘মায়েরা তাঁদের সন্তানদের জন্য, পরিবারের মঙ্গলের জন্য উপবাস করেন। তাহলে কেউ যদি একদিন নিজের স্বামীর জন্য উপবাস রাখতে চান তাতে সমস্যা কোথায়? যতক্ষণ সেটা তাঁর নিজের ইচ্ছায় হচ্ছে, কেউ তাঁকে বাধ্য করছে না, ততক্ষণ মানুষকে নিজের মতো করে ভালোবাসা উদ্‌যাপন করতে দাও।’ ব্যক্তিগতজীবনের অনুভূতি থেকে অভিনেত্রীর সংযোজন, ‘শান বড় হয়েছে একটি মুসলিম পরিবারে। অথচ প্রতি করবা চৌথেই ও আমাকে জিজ্ঞেস করে, তুম উপোস করবে? আর আমি প্রতি বছরই বলি, পরেরবার দেখছি! এখনও আমার ছেলেকে দুধ খাওয়াই। আশা করছি আগামী বছর হয়তো উপবাসটা রাখতে পারব।’

খানিক আক্ষেপের সুর, ‘স্বামীরাও তো একটু বিশেষ অনুভব করতে চান। ভালোবাসা পেতে চান, তাই না? আমরা নিজেদের প্রয়োজনে ডায়েট করি, একবেলা খাবার না খেয়ে থাকি। অথচ স্বামীর জন্য একদিন উপবাস রাখার কথা উঠলেই হঠাৎ সবকিছু পিতৃতন্ত্র আর নারীবাদের আলোচনায় পরিণত হয়। ভালোবাসা ব্যক্তিগত। ঐতিহ্য ব্যক্তিগত। উদ্‌যাপনও ব্যক্তিগত। যে যার মতো করে আনন্দ খুঁজে নিক, নিজের পছন্দমতো উৎসব পালন করুক। সকলকে করবা চৌথের অনেক শুভেচ্ছা। তোমাদের ভালোবাসা যেন প্রতিদিন আরও গভীর হয়, আরও মজবুত হয়।’

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *