উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ফুটবল মাঠে রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে তর্কবিতর্ক নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা ম্যাচ হলে তো কথাই নেই (Referee Ismail Elfath)। ১৯৬৬ সালের আন্তোনিও রাত্তিনের লাল কার্ড হোক, ১৯৮৬ সালে দিয়েগো মারাদোনার সেই বিখ্যাত হাত দিয়ে করা গোল, কিংবা ১৯৯৮ সালে ডেভিড বেকহ্যামের মাঠ ছাড়া- রেফারিদের ভূমিকা বারবার এই দুই দলের দ্বৈরথে চর্চার কেন্দ্রে থেকেছে। এবার আটলান্টার সেমিফাইনালে সেই গুরুদায়িত্ব গিয়ে পড়ল ইসমাইল এলফ্যাথের কাঁধে।
৪৪ বছরের এই রেফারির জীবনের গল্পটা বেশ চমকপ্রদ। মরক্কোয় জন্মে আমেরিকায় বড় হওয়া ইসমাইল একসময় নিজেই ফুটবল খেলতেন। ইউএসএল লিগ টু-তে অস্টিন লাইটনিং দলের হয়ে রীতিমতো স্ট্রাইকার হিসেবে মাঠে নামতেন তিনি। কিন্তু মাঠে রেফারিদের মান নিয়ে তাঁর তীব্র অসন্তোষ ছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই একদিন নিজেই বাঁশি হাতে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের নিশ্চিন্ত চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি রেফারি হিসেবেই নিজের কেরিয়ার শুরু করেন তিনি। আজ তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সম্মানিত রেফারি।
আর্জেন্টিনার কাছে ইসমাইল মোটেও অপরিচিত নাম নন। বরং তাঁদের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তের অন্যতম সাক্ষী এই মরক্কান-আমেরিকান। ২০২২ সালের সেই রুদ্ধশ্বাস বিশ্বকাপ ফাইনালে, যেখানে ফ্রান্সকে হারিয়ে লিওনেল মেসি তাঁর স্বপ্নের ট্রফি ছুঁয়েছিলেন, সেই ম্যাচে চতুর্থ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব সামলেছিলেন ইসমাইল। এবার সেই মেসির দলেরই সেমিফাইনাল পরিচালনার মূল দায়িত্বে তিনি।
বুধবার আটলান্টায় তাঁর সঙ্গে সহকারী রেফারি হিসেবে মাঠে থাকবেন আমেরিকার কোরি পার্কার এবং কাইল অ্যাটকিনস। এছাড়া ইতালির মাউরিজিও মারিয়ানি চতুর্থ রেফারি এবং দানিয়েল বিন্দোনি রিজার্ভ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

