উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ভক্তি আর বিশ্বাসের কেন্দ্রে এবার দুর্নীতির অন্ধকার ছায়া। অযোধ্যার (Ayodhya) নবনির্মিত রামমন্দিরের (Ram Mandir) পবিত্র সিন্দুক থেকে গত এক বছর ধরে কোটি কোটি টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লোপাটের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, এত বড় একটি চুরির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও এফআইআর দায়ের করেনি উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। আর এই আইনি ফাঁকফোকর নিয়েই এখন দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এফআইআর ছাড়াই কীভাবে অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।
লখনউয়ের (Lucknow) উচ্চপদস্থ পুলিশ (Police) সূত্রের খবর, এটি কোনো সাধারণ চুরি নয়, বরং অত্যন্ত সুপরিকল্পিত একটি ‘ইনসাইডার জব’ বা ভেতরের লোকেদের কাজ। মন্দিরের দানবাক্স ও সিন্দুকের অর্থ গণনা এবং তা ব্যাংকে জমা দেওয়ার দায়িত্বে ছিল ৬ সদস্যের দুটি বিশেষ দল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সিন্দুক ও তার প্রবেশদ্বারে যে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো বসানো হয়েছিল, তার বেশ কয়েকটি ইচ্ছাকৃতভাবেই অকেজো বা ‘নন-ফাংশনাল’ করে রাখা হয়েছিল। এই তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা ইঙ্গিত করছে যে, মন্দির পরিচালনা কমিটির শীর্ষস্তরের কর্মকর্তারাও এই চক্রের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
পুলিশ ইতিমধ্যেই মিলকিপুর এবং মিনাপুর ঠাকুরান ফাগাউলি এলাকার একাধিক ডেরায় হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করেছে। মিনাপুরের একটি বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। লখনউয়ের এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, আনুমানিক ৭ কোটি টাকার চুরির মধ্যে এখনও পর্যন্ত মোট ২.৯৮ কোটি টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মন্দির কমিটির অন্তত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনায় যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) সরকার লখনউয়ের ডিভিশনাল কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্তের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। সিট-কে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিরেক্টর জেনারেল (DGP) অরবিন্দ জৈন জানিয়েছেন, সিট-এর রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই হয়তো পরবর্তীতে সরকার এফআইআর (FIR) দায়ের করবে।
কিন্তু এই ঢিমেতালে তদন্তে একেবারেই খুশি নন রামভক্তরা। অযোধ্যার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা, ৪৫ বছর বয়সী বিক্রম তিওয়ারি রবিবার নিজেই পুলিশের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “সারাটা জীবন রামলালার সেবায় কাটালাম, মন্দির তৈরিতেও হাত লাগিয়েছি। আর আজ দেখছি প্রতিদিনের দান করা অর্থ চুরি হয়ে যাচ্ছে। পুলিশ বলছে তদন্ত চলছে, কিন্তু এফআইআর ছাড়াই কীসের তদন্ত? আমরা ভেবেছিলাম রামমন্দির হলে দেশে রামরাজ্য বা সুবর্ণ যুগ আসবে, কিন্তু চারপাশ তো চোরেদের রাজত্ব তৈরি হয়েছে।”
অভিযুক্তরা চুরির টাকা দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বেনামী সম্পত্তি কিনেছেন এবং বিলাসবহুল ভ্রমণ করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। ক্ষুব্ধ আমজনতার দাবি, শুধুমাত্র সাধারণ পুলিশি তদন্ত নয়, বরং এই চুরির টাকার গতিপথ (Cash Path) ট্র্যাক করতে একটি শক্তিশালী আর্থিক তদন্তকারী দল গঠন করা উচিত।
এখন দেখার, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সিট কী রিপোর্ট জমা দেয় এবং রামলালার তহবিলে থাবা বসানো এই ‘ভিআইপি চোরদের’ যোগী সরকার শেষ পর্যন্ত কীভাবে খাঁচায় পোরে।
