উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে, ঠিক সেই আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ফোনালাপ (Modi-Trump Telephone Name) নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তবে এই কথোপকথনে তৃতীয় কোনও ব্যক্তির উপস্থিতি নিয়ে ওঠা জল্পনা কার্যত উড়িয়ে দিল ভারত সরকার। প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যেকার সেই হাই-প্রোফাইল ফোনালাপে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক (Elon Musk) উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছিল এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। তবে শনিবার সেই প্রতিবেদনটিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে নয়াদিল্লি (Indian authorities)।
বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গত ২৪ মার্চের সেই কথোপকথনটি ছিল সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক এবং শুধুমাত্র দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বিদেশ মন্ত্রকের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা ওই প্রতিবেদনটি দেখেছি। প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং তাতে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করা হয়েছে।’ ভারতের এই প্রতিক্রিয়ার পর স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, কোনও বেসরকারি নাগরিক বা তৃতীয় পক্ষের এই কূটনৈতিক আলোচনায় অংশগ্রহণের খবরটি সত্য নয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমটির দাবি ছিল, যুদ্ধের আবহে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ইলন মাস্কের কথা বলা এক বিরল ঘটনা। মূলত মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে জ্বালানি—বিশ্বের একাধিক ক্ষেত্রে মাস্কের বাণিজ্যিক স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ করে ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর জন্য যখন মাস্ক মরিয়া, ঠিক সেই সময় ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নতুন সমীকরণ তৈরি করছে বলে জল্পনা ছড়িয়েছিল। তবে ভারত সরকারের এই সাফাই সেই জল্পনায় জল ঢেলে দিল।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী মোদি এই প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। সংসদে দাঁড়িয়েও প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, সমুদ্রপথে পণ্যবাহী জাহাজের ওপর হামলা এবং বাণিজ্যে ব্যাঘাত কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে জ্বালানি তেল ও সারের আমদানিতে যাতে প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে ভারত কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
মোদি-ট্রাম্পের এই আলোচনাকে ‘ফলপ্রসূ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে দুই দেশই। ভারতের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি স্থাপনের বার্তাই দেওয়া হয়েছে বিশ্বের দরবারে।
