Rajganj BDO Prashanta Barman | খুনে অভিযুক্ত বিডিও-র বিরুদ্ধে

Rajganj BDO Prashanta Barman | খুনে অভিযুক্ত বিডিও-র বিরুদ্ধে

শিক্ষা
Spread the love


শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: খুনে অভিযুক্ত রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের (Rajganj BDO Prashanta Barman) বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পরও নীরব রাজ্য প্রশাসন। দিনের পর দিন দপ্তরে অনুপস্থিত থাকলেও ফেরার প্রশান্তর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপই করছে না রাজ্য প্রশাসন। তাহলে কি এতকিছুর পরও প্রশান্তকে বাঁচাতে চাইছে প্রশাসনের একাংশ? এই প্রশ্নই উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

প্রভাবশালী বিডিওকে (Rajganj BDO) নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। জলপাইগুড়ির জেলা শাসক শামা পারভিনকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। মেসেজ পাঠালেও উত্তর দেননি। জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri Information) সদর মহকুমা শাসক তমোজিৎ চক্রবর্তীকেও একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। রাজগঞ্জের জয়েন্ট বিডিও সৌরভ মণ্ডলের বক্তব্য, ‘বিডিও, জয়েন্ট বিডিও একই কথা। আপাতত আমিই এসআইআর সংক্রান্ত কাজকর্ম দেখভাল করছি। তবে বিডিও ছুটিতে আছেন কি না জানা নেই। সেটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই বলতে পারবে।’

বিডিও ব্লকের নির্বাচনি আধিকারিক। নির্বাচন কমিশনের এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া যখন জোরকদমে চলছে, সেই সময় বিডিও পালিয়ে বেড়ানোয় ব্লক প্রশাসনে অদ্ভুত অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অস্বস্তিতে পড়েছেন জেলা প্রশাসনের অধিকারিকরাও। খুনে অভিযুক্ত প্রশান্তকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করা হচ্ছে না সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের কথা, ‘রাজ্য সরকারের প্রশ্রয়ে এবং রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের প্রত্যক্ষ মদতে ওই বিডিও নানা অপকর্ম করেছেন। বহু দুর্নীতি করেছেন। তাই এখনও ওকে বাঁচানোর চেষ্টা হচ্ছে।’ উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ অবশ্য দাবি করেছেন, রাজ্য সরকার বিডিও’র বিষয়টি দেখছে। তাঁর কথা, ‘রাজগঞ্জে জয়েন্ট বিডিও আছেন। তিনি এসআইআর-এর কাজকর্ম পরিচালনা করছেন। বাকি বিষয় দেখা হচ্ছে।’ প্রশান্ত কাণ্ডে তাঁরা যে সমস্যায় পড়ছেন সেকথা অস্বীকার করেননি রাজগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়। তাঁর বক্তব্য, ‘জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। ব্যবস্থা করতে বলেছি। বাকিটা জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা বলবেন। সেগুলো আমার বিষয় নয়।’

ব্লক স্তরে বিডিও কেবল উন্নয়ন প্রকল্পের রূপকার নন, ভোটার তালিকা সংশোধন, এসআইআর সংক্রান্ত তথ্য যাচাই, বুথ লেভেল অফিসারদের তদারকি- সবই তাঁর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে। এমন এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা আধিকারিকের বিরুদ্ধে খুনের মতো গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া মানেই বিষয়টি শুধু ফৌজদারি অপরাধ নয়, সরাসরি নির্বাচন প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে জড়িয়ে যায়।

রাজ্য প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী, কোনও সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে প্রশাসনের প্রথম কর্তব্য তাঁকে দ্রুত দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা। সাধারণত এই ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সাসপেনশন বাধ্যতামূলক ধরা হয়, যাতে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত না হয় এবং সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা যায়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সরকারি বাসভবন, সরকারি গাড়ি, অস্ত্র (যদি থাকে), নথিপত্র ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। প্রয়োজনে বিকল্প অফিসার নিয়োগ করে প্রশাসনিক ও নির্বাচনি কাজ নির্বিঘ্ন রাখার ব্যবস্থা করাও উচিত। কিন্তু প্রশান্ত বর্মনের ক্ষেত্রে এসবের কোনওটিই দৃশ্যমান নয়। প্রশাসনের এই নীরবতাই সাধারণের মনে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা সম্পর্কে সন্দেহ আরও ঘনীভূত করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, প্রশান্ত ছুটির আবেদন করেননি। সেক্ষেত্রে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চেয়ে জেলা প্রশাসনের তরফে প্রশান্তকে শোকজ করা হয়েছে কি না তাও স্পষ্ট নয়। রাজ্যের এক প্রাক্তন সচিব জানিয়েছেন, খুনের মামলায় অভিযুক্ত কোনও সরকারি আধিকারিক যদি আত্মগোপন করেন, তাহলে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের দায়িত্ব বিশেষ টিম গঠন করে অভিযুক্তর বিরুদ্ধে তদন্ত করা এবং এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনকেও লিখিতভাবে জানানো বাধ্যতামূলক।

নির্বাচন কমিশনের কর্তারাও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ। যদিও সূত্রের খবর, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই প্রশান্তর বিষয়টি জানিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে খুনে অভিযুক্ত বিডিওকে দায়িত্ব থেকে সরানো না হলে তিনি নথি লোপাট করতে পারেন বলে আশঙ্কা করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী সন্দীপ মণ্ডল। তাঁর কথা, ‘আইন থাকতেও যদি তার প্রয়োগ না হয়, তবে তা সরাসরি আইনের শাসনকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। প্রশান্তর ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। প্রশাসনকে আরও স্বচ্ছ হতে হবে। রাজগঞ্জের বিডিও’র ক্ষেত্রে আইন অমান্য করে যা হচ্ছে তা প্রশাসনের জন্যও চরম লজ্জার।’

দিনের শেষে রাজ্য সরকারের নীরবতা এখন আর শুধু প্রশাসনিক শৈথিল্য নয়, তা রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়ের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। খুনের আসামি যদি একজন সাধারণ নাগরিক হতেন, তাঁর ক্ষেত্রেও কি এমন উদাসীনতা দেখানো হত? নাকি পদ ও প্রভাব থাকলেই আইনের গতি শ্লথ হয়ে যায়? রাজ্য প্রশাসনের কাছে এখন এই প্রশ্নগুলোর উত্তর চাইছেন সাধারণ মানুষ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *