Rajganj | ডলা শিল্প বেঁচে থাকে কালীপুজোয়

Rajganj | ডলা শিল্প বেঁচে থাকে কালীপুজোয়

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


রামপ্রসাদ মোদক, রাজগঞ্জ: গ্রামবাংলার অনেক শিল্প আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে। এরকম একটি শিল্প হল শোলা দিয়ে তৈরি ডলা। পুরোপুরি মুছে না গেলেও এই শিল্পকে যেন মা কালী, মনসা বাঁচিয়ে রেখেছেন। একসময় গ্রামগঞ্জে এই শিল্পের বেশ কদর ছিল। এই কাজের শিল্পীদের মালাকার বলা হত। ধীরে ধীরে আধুনিকতার ছোঁয়ায় শোলাশিল্প কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চলে গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এই ডলার দামও বেড়ে গিয়েছে। তবুও শিল্পীরা বংশপরম্পরায় তাঁদের এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। এখন কালীপুজোর সময় এই মালাকাররা কিছুটা লাভের মুখ দেখেন।

রাজবংশী (Rajganj) সমাজেও আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। তবে পুরোনো দিনের কথা মনে রেখে তাঁরা মন্দির তৈরি করলেও মন্দিরের ভেতরে মা কালীর প্রতিমা না রেখে এখনও তাঁদের ঐতিহ্য বজায় রেখে শোলা দিয়ে তৈরি ডলা ঝুলিয়ে দেন। তাই অন্যান্য সময়ের তুলনায় কালীপুজোয় বেশ কিছু টাকা রোজগারের সুযোগ পান এই শোলাশিল্পীরা।

কালীর ডলা দেখতে বিভিন্ন রকমের হয়। উত্তরবঙ্গে একাধিক কালীর নাম আমরা শুনতে পাই। যেমন ডান কালী, বামাকালী, শ্মশানকালী, মগর কালী, ভদ্রকালী ইত্যাদি। সেইসব কালীর নাম অনুসারে তৈরি হয় ডলা। ডলার মধ্যে কালীর ছবি ছাড়াও থাকে শিব ও ডাকিনী-যোগিনীর ছবি। বিভিন্ন আকারের ডলা তৈরি করা হয়। ডলা তৈরি করার প্রধান সামগ্রী হল শোলা। এছাড়া কাগজ, চুমকি, কাগজের ফুল, বাঁশের কাঠি ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।

কালীপুজো ছাড়াও অনেকে মনসাপুজোর সময় ডলা ব্যবহার করেন। এছাড়াও এই শিল্পীরা শোলা দিয়ে বিয়ের মুকুট, শোলার মালা, ফুল এবং ঠাকুরের মুকুট তৈরি করেন। রাজবংশীদের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে পাল সম্প্রদায়ের মানুষরাও এই ডলা তৈরি করেন।

রাজগঞ্জের তেলিপাড়ার শোলাশিল্পী চায়না মালাকার বলেন, ‘কালীপুজোর সময় আমরা ডলা বিক্রি করে কিছু টাকা আয় করি। বছরের অন্য সময় এই জিনিসের তেমন চাহিদা থাকে না।’ আরেক শিল্পী সুশান্ত মালাকার বলেন, ‘এক-একটি ডলা বানাতে যা খরচ এবং পরিশ্রম করতে হয় তার সঠিক মূল্য পাওয়া যায় না। তবুও বাবা-ঠাকুরদার সময় থেকে এই শিল্প চলে আসছে। তাই আমরা আজও এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছি। এবছর আমি প্রায় ২০০টি ডলা বানিয়েছি। তার মধ্যে ১০০টি ছোট এবং ১০০টি বড় সাইজের। ডলাগুলির দাম শুরু হয় ১০০ টাকা থেকে। বড় সাইজের ডলাগুলি প্রায় ১ হাজার টাকায় বিক্রি করি।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *