রায়গঞ্জ: হোটেলে ঢুকে মনের সুখে মাছ-মাংস, দই-কলা দিয়ে জমিয়ে ভুরিভোজ। এরপর তৃপ্তি করে বিড়িতে সুখটান দিয়ে বাসনপত্র মেজে পরিষ্কার করে ফেলা—এহেন অদ্ভুত ও অভিনব চুরির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রায়গঞ্জের নাগর এলাকায় (Raiganj Resort Theft)। বুধবার সকালে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই হতবাক স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জ থানার ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে নাগর এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা লতিফা বেগমের ছোট একটি খাবারের হোটেল রয়েছে সেখানে। মঙ্গলবার রাতে নিজের হোটেল বন্ধ করে তিনি বাড়ি চলে যান। বুধবার সকালে হোটেল খুলতে এসে তিনি দেখেন দরজার তালা ভাঙা। ভেতরে ঢুকতেই চক্ষু চড়কগাছ! হোটেলের মেঝেতে ছড়িয়ে রয়েছে মালভোগ কলার খোসা, দইয়ের পাতিল, মাছ-মাংসের কাঁটা ও হাড়। মেঝেতে পড়ে ছিল আধপোড়া বেশ কয়েকটি বিড়ি।
লতিফা বেগম জানান, হোটেল সাজানোর জন্য সম্প্রতি তিনি একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে লক্ষাধিক টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। দৈনিক বিক্রির টাকা দিয়ে ঋণের কিস্তি মেটাতেন তিনি। কিন্তু চোরেরা কেবল খাবার খেয়েই ক্ষান্ত হয়নি, হোটেলের বাসনপত্রসহ হাতের কাছে যা পেয়েছে, সব বস্তায় ভরে নিয়ে চম্পট দিয়েছে। ফলে কার্যত সর্বস্বান্ত হোটেল মালকিন। তিনি ভাটোল ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজও পুলিশকে দিয়েছেন।
এই ধরনের অদ্ভুত চুরির ঘটনা নিয়ে খদ্দের শালেক মোহাম্মদের মন্তব্য, “বেশ মজা করে খেয়ে-দেয়ে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। এমন ঘটনা এই এলাকায় আগে কখনও ঘটেনি।” অন্যদিকে, পুলিশ আধিকারিকদের প্রাথমিক ধারণা, এই চুরির সঙ্গে যারা যুক্ত, তারা অধিকাংশই ব্রাউন সুগারের মতো মাদকাসক্ত। নেশার টাকার জোগাড় করতেই এই অভিনব পথ বেছে নিয়েছে দুষ্কৃতীরা। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
