রায়গঞ্জ: প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক তরুণীকে অপহরণ করে বিহারের পতিতাপল্লীতে বিক্রির করার অভিযোগে (Raiganj Lady Trafficked) মূল অভিযুক্ত এক যুবককে গ্রেপ্তার করল রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। বুধবার ভোরে বিহারের বারসই এলাকা থেকে অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হয়। এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম মনোয়ার আনসারী (২২)। সে পেশায় ঠিকাদার এবং তার বাড়ি বিহারের গোপালগঞ্জ জেলার ভোররে (Bhore) থানা এলাকায়। চলতি মাসের গত ২ সেপ্টেম্বর রায়গঞ্জ থানার বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এক তরুণীকে রাস্তা থেকে অপহরণ করে বিহারে নিয়ে যায় ওই যুবক। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, তরুণীর সঙ্গে ধৃতের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে এবং বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁকে বিহারে পাচার করা হয় এবং সেখানে একটি পতিতাপল্লীতে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন সেখানে বন্দি থাকার পর গত ২১ সেপ্টেম্বর কোনোমতে ওই পতিতাপল্লীর একটি বাথরুমের জানালা ভেঙে পালিয়ে বাঁচেন ওই তরুণী। এরপর তিনি রায়গঞ্জের নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন। গতকাল সকালে তরুণীর বাবা রায়গঞ্জ থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ড. সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশের নির্দেশে তদন্ত নামে পুলিশ। সাইবার সেল ও মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন ট্র্যাক করে বুধবার ভোররাতে বিহারের বারসই থেকে অভিযুক্ত মনোয়ার আনসারীকে গ্রেপ্তার করে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।
ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) আইনের ১৩৭(২), ১৪০(৩) ও ৬৪ ধারায় সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ধৃতকে রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। রায়গঞ্জ পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এই পাচার চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

