ঢাল-তলোয়ার, রাজত্ব সব হারিয়ে ফের পুরনোর কাছে ফিরেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি দিল্লি গিয়ে বিরোধী INDIA জোটের বৈঠকে তাঁকে দেখা গিয়েছিল কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর পাশে বসতে, এমনকী রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবেও সমর্থন জানিয়েছেন মমতা। তবে তাঁকে দলে স্বাগত জানিয়েও নিজেদের শর্ত দিলেন প্রাক্তন সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে নিজের আপত্তির কথা জানিয়ে তিনি মমতার উদ্দেশে স্পষ্ট বললেন, ‘‘আপনার সব এমপি-এমএলএ, লোটাকম্বল সব নিয়ে আসুন, কিন্তু ব্যাগেজটা বাদ দেবেন।”
অধীরের বক্তব্য, ‘‘আপনার সব এমপি, এমএলএ-দের নিয়ে কংগ্রেসের ছাতার নিচে আসুন। নেতৃত্ব দিন, আমরা মেনে নেব। লোটাকম্বল সব নিয়েই আসুন। কংগ্রেসের মতো বটগাছের নিচে যখন আসতে চাইছেন, আসুন। কিন্তু ব্যাগেজটি বাদ দিয়ে আসতে হবে।”
আরও পড়ুন:
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে সম্প্রতি ফের একজোট হয়েছেন বিরোধীরা। বুধবার দিল্লিতে তাঁরা বৈঠক করে জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবি তুলেছেন। এই বৈঠকে সোনিয়া গান্ধীর পাশে দেখা গিয়েছে এ রাজ্যের প্রাক্তন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এমনকী ‘ইগো’ ভুলে রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান বলেও মতপ্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মাস কয়েক আগেও ছবিটা এমন ছিল না। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী যখন ইভিএম কারচুপি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছিলেন, সেসময় দিল্লি সফরে গিয়ে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়েছিলেন, ইভিএমে কারচুপি সম্ভব নয়, তাঁর কোথাও ভুল হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনে যখন রাহুল গান্ধী কংগ্রেস প্রার্থীদের হয়ে বঙ্গে একাধিক প্রচার করেছেন, তখনও অভিষেক তাঁকে ‘বসন্তের কোকিল’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। স্বাভাবিকভাবে কংগ্রেস শিবিরে অভিষেককে নিয়ে অ্যালার্জি রয়েছে। বৃহস্পতিবার নাম না করে সেই মনোভাবই প্রকাশ করলেন অধীর চৌধুরী।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীরের বক্তব্য, ‘‘আপনার সব এমপি, এমএলএ-দের নিয়ে কংগ্রেসের ছাতার নিচে আসুন। নেতৃত্ব দিন, আমরা মেনে নেব। লোটাকম্বল সব নিয়েই আসুন। কংগ্রেসের মতো বটগাছের নিচে যখন আসতে চাইছেন, আসুন। কিন্তু ব্যাগেজটি বাদ দিয়ে আসতে হবে।” রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আগেও একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিতে দেখা গিয়েছে অধীর চৌধুরী, শুভঙ্কর সরকারদের। কিন্তু তার জন্য নির্দিষ্ট শর্তও রাখলেন অধীর। পুরনো কংগ্রেস নেতা সোমেন মিত্র, প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সিদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করে আসা মমতার লড়াইকে সম্মান জানিয়েই তাঁকে দলে নিতে প্রস্তুত হাত শিবির। কিন্তু অভিষেক? নৈব নৈব চ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
