দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জের (Raiganj) বীরনগরের উদীয়মান সংঘের বাসন্তীপুজো (Raiganj Basanti Puja) এবার ৭০তম বর্ষে পড়বে। প্রথম দিন থেকে এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী গোবিন্দ রায়। শুরুর সময় থেকে এখনও পর্যন্ত তিনি পুজোমণ্ডপের নিত্যদিনের পুজো করে আসছেন। এই পুজোর বিশেষত্ব হচ্ছে প্রতিমাকে পুজো শেষে নিরঞ্জন করা হয় না। দুর্গাপুজো অবধি মণ্ডপেই থাকে। তখনও দু’বেলা পুজোর দায়িত্ব তাঁকেই পালন করতে হয়। দুর্গাপুজোর সময় প্রতিমা নিরঞ্জন করে সেই মণ্ডপে দুর্গা পূজিত হন। বাসন্তীপুজোর আগে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন করা হয়।
নিত্যদিনের বাসন্তীপুেজায় (Basanti Puja) গোবিন্দকে সাহায্য করেন তাঁর পুত্র শংকরকুমার রায়। তাঁদের সহযোগিতা করেন এলাকার বাসিন্দা সুদীপ দাস। শংকরের কথায়, ‘উদীয়মান সংঘের বাসন্তীপুজোর পুরো দায়িত্ব আমাদের কাঁধে। চাঁদা তোলা থেকে পুজোর সব আয়োজন আমরাই করি। নবমীর দিন খিচুড়ি প্রসাদের ব্যবস্থা থাকে সকলের জন্য।’ পুজো ছোট হলেও আনন্দে মাতেন সকলে বলে জানান তিনি। এবার এই পুজোর বাজেট আনুমানিক ৭০ হাজার টাকা। মন্দিরেই পুজো হয় বলে আলাদা মণ্ডপ তৈরি করতে হয় না। প্রতিমা তৈরি করছেন শিল্পী ভানু পাল। ওই এলাকাতেই তিনজন মহিলা দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বাসন্তীপুজো করে আসছেন। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শ্রীপুর মহিলা ও খাদি উন্নয়ন সমিতির সম্পাদিকা জবা ভট্টাচার্য ও সদস্যা রিনা নট্ট বর্মন এবং উকিলপাড়ার জয়িতা দত্ত এই পুজোর আয়োজন করেন। পুজোর শুরু থেকে ১১ বছর পর্যন্ত তাঁরা নিজের হাতে দূষণমুক্ত প্রতিমা তৈরি করে পুজো করতেন। কিন্তু গত দুই বছর ধরে সময়ের অভাবে সেই প্রতিমা তৈরি করতে পারছেন না।
জবা জানান, রাজমা, ছোলা, মশুর ডাল, মাষকলাই ডাল, ঘাস, কুমড়ো, লাউ, লাল শাক, পালং শাক ও ঢ্যাঁড়শের বীজ সহ সুপারি, হরীতকীর দানা ভেষজ আঠার সাহায্যে সমস্ত দেবদেবীর গায়ে বসিয়ে শিল্পকলার মাধ্যমে সেই প্রতিমার সাজসজ্জা, চুল ও অলংকার তৈরি হত। প্রতিমা দেখতে বহু মানুষ আসতেন। তাঁর কথায়, ‘দুই বছর হল আমরা আর সময় দিতে পারি না। তাই কুমোরটুলি থেকে প্রতিমা নিয়ে এসে পুজো করা হয়। চারদিন ধরেই মাকে ভোগ দেওয়া হয়। নবমীর দিন চলে প্রসাদ বিতরণ।’ উদয়পুরেও দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে বাসন্তীপুজো হয়ে আসছে। সুভাষগঞ্জের বাগানপাড়া ক্লাবের উদ্যোগে বাসন্তীপুজো করেন বাসিন্দারা।
অন্যদিকে, রায়গঞ্জ ব্লকের শেরপুর অঞ্চলের ধুরইল গ্রামে নিতাইচন্দ্র রায়ের বাড়ির বাসন্তীপুজো শতাধিক বছরের পুরোনো। এছাড়া, কসবামহশো গ্রামের খুশিমোহন সরকার, জ্ঞানেন্দ্র সরকার এবং দুলাল সরকারের আয়োজনে বাসন্তীপুজো হয়। যেখানে সপ্তমী পুজোর দিন দুপুরে গ্রামের মানুষের নিমন্ত্রণ থাকে।
