বিশ্বজিৎ সরকার,রায়গঞ্জ: ভোররাতে বড়সড় বিদ্যুৎ বিভ্রাট। আর তার জেরেই স্তব্ধ হয়ে গেল রায়গঞ্জ (Raiganj) মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অক্সিজেন উৎপাদন ব্যবস্থা। দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও শনিবার বিকেল পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় তীব্র উৎকণ্ঠা ছড়িয়েছে হাসপাতাল চত্বরে। বিশেষ করে SNCU এবং CCU-এর মতো অতি-সংকটজনক বিভাগে ভর্তি থাকা রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, শনিবার ভোররাতে হাসপাতালের অক্সিজেন প্ল্যান্টের প্রধান বিদ্যুৎবাহী কেবলে (Electrical Cable) যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। মুহূর্তের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ, যার ফলে অক্সিজেন উৎপাদনের সমস্ত যন্ত্রাংশ অচল হয়ে যায়। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই হাসপাতালের টেকনিক্যাল ও মেকানিক্যাল বিভাগের কর্মীরা মেরামতির কাজে হাত দেন।
হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে হাসপাতালে প্রায় ৩ দিনের অক্সিজেন মজুত রয়েছে। ৬০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়।
মূল উদ্বেগের জায়গাগুলো:
- SNCU ও CCU: নবজাতক এবং সংকটজনক রোগীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ অপরিহার্য।
- প্রশাসনিক তৎপরতা: ভোররাতে দুর্ঘটনা ঘটলেও বিকেল পর্যন্ত নতুন কেবল না পৌঁছনোয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রোগীর পরিজনেরা।
যদিও হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার সৌনক কুমার ঘোষ জানিয়েছেন, টেকনিক্যাল ও মেকানিক্যাল, এই দুই বিভাগ একযোগে কাজ করছে এবং মজুত অক্সিজেন শেষ হওয়ার আগেই পরিষেবা স্বাভাবিক হবে বলেই আশাবাদী কর্তৃপক্ষ।
অক্সিজেন প্ল্যান্টের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবনদায়ী ইউনিটে কেন কোনো বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ছিল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশাবাদী যে, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে, তবুও সময়সীমা যত কমছে, ততই বাড়ছে সাধারণ মানুষের আতঙ্ক। এখন দেখার, সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে রায়গঞ্জ মেডিকেলের এই ‘অক্সিজেন সংকট’ মেটে কিনা।
