রায়গঞ্জ: পুরনো ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে বালি বোঝাই লরির বেপরোয়া গতির জেরে ঘটল মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা (Highway Accident)। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পরপর তিনটি টোটো ও একটি বাইকে সজোড়ে ধাক্কা মারে ঘাতক লরিটি। দুর্ঘটনায় ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে সাতটা নাগাদ রায়গঞ্জ (Raiganj) থানার বারদুয়ারি এলাকায় মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়।
প্রত্যক্ষদর্শী দুর্লভ বর্মনের বিবরণ অনুযায়ী, বালি বোঝাই ঘাতক লরিটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এসে চোখের নিমিষে পর পর তিনটি টোটো এবং একটি বাইকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। দুর্ঘটনার তীব্রতায় টোটোগুলি উল্টে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
ঘটনার পর পর স্থানীয় বাসিন্দারা ধাওয়া করে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে লরিটিকে ধরে ফেলে। বিক্ষুব্ধ জনতা লরি চালককে বেধড়ক মারধর করে এবং গাড়িটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
ঘটনার খবর পেয়েই রায়গঞ্জ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং দমকলের একটি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে গিয়ে পুলিশ ও দমকল কর্মীদেরও ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় এবং নিগ্রহের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার জেরে পুরনো ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘুরপথে যাত্রীবাহী বাস চলাচলের ব্যবস্থা করে।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে রায়গঞ্জ ট্রাফিক পুলিশ দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা দীপক ধর (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ (Police) সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের বাড়ি কলকাতার টালিগঞ্জ এলাকায়।
বাকি সাতজন আহতের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শল্য বিভাগে ভর্তি রেখে চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে। শল্য চিকিৎসক ডঃ সঞ্জয় শেঠ জানিয়েছেন, আহত সাতজনেরই অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় তাঁদের দ্রুত উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (NBMCH) রেফার করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
ঘটনার নিশ্চিতকরণে রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ডঃ সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

