Raiganj | বাজারে চাহিদা, ব্যস্ত শিল্পীদের গ্রাম

Raiganj | বাজারে চাহিদা, ব্যস্ত শিল্পীদের গ্রাম

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: হাতে মাত্র আর একদিন। তারপরেই ছটপুজো। সেকথা মাথায় রেখে এখন ছটপুজোর অন্যতম ব্যবহার্য, ডালি ও কুলো বানাতে ব্যস্ত সুভাষগঞ্জের দাসপাড়া ও কোঁতগ্রামের প্রায় ৬০-৭০টি পরিবারের বাসিন্দারা (Raiganj)। এখন সেখানে গেলেই ঘরে ঘরে শোনা যাবে বাঁশ কাটার শব্দ। দুর্গাপুজোর আগে থেকে সেগুলির চাহিদা বাড়তে থাকে এবং ছটপুজোর আগে তাদের নাওয়াখাওয়ার সময় থাকে না বললেই চলে। বিকল্প কোনও কাজ নেই, তাই সারাবছরই কমবেশি বাঁশের জিনিস তৈরি করেন গ্রামের মহিলারা। তবে ছটপুজোর আগেকার চাহিদার কথা মাথায় রেখে, এই সময় বাড়ির পুরুষরাও লেগে পড়েন ডালি, কুলো তৈরির কাজে।

তবে সারাবছর বাঁশের জিনিস তৈরি করেও, পরিশ্রম অনুযায়ী ন্যায্য দাম মেলে না। শিল্পী হিসেবে তাঁদের কোনও সরকারি ভাতাও নেই। ডাক পান না কোনও সরকারি হস্তশিল্পের মেলাতেও। তবুও সংসারের দিকে তাকিয়ে, আজও বছরের পর বছর এই কাজই করে চলেছেন ওই দুই গ্রামের মহিলারা। প্রবীণ শিল্পী ছবি দাস বলেন, ‘এবছর চাহিদা বেশ ভালোই। তাই দিনরাত বাড়ির সকলে মিলেই কাজ করছি। রায়গঞ্জ হাট ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন হাটেও আমাদের বানানো ডালি কুলো যাচ্ছে। কিন্তু সেভাবে দাম পাচ্ছি না। একেকটা কুলো বানাতে যে পরিশ্রম করতে হচ্ছে, সে তুলনায় ভালো দাম দিচ্ছে না পাইকাররা। কিন্তু বাঁশ কাটা, বাঁধাই করা এবং রং করা যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ কাজ। আগে গ্রামের অনেকেই কিছু সরকারি মেলায় ডাক পেত। এখন তাও নেই। কতদিন এই কাজে অন্ন সংস্থান সম্ভব হবে জানি না।’

আরেক শিল্পী রেখা দাসের কথায়, ‘নিজেরা হাটে মাল নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে পারলে কিছু লাভ হয়। কিন্তু পাইকারদের দিলে তার কিছুই হয় না। তবুও বাধ্য হয়েই দিতে হয়। নিজেরা হাট করতে গেলে যথেষ্ট পরিমাণ কাজ হবে না। এবারে চাহিদা বেশি, বলে সারাদিনই কাজ করছি। তবুও একা হাতে দিনে চার কি পাঁচটার বেশি কুলো তৈরি করা যায় না। তাছাড়া সারাবছরই যদি বাড়ির পুরুষরা এই কাজে হাত লাগায়, তাহলে সংসার চলবে না। এর আগে শিল্পী ভাতার জন্য বহু জায়গায় কাগজপত্র জমা দিলেও ভাতা চালু হয়নি।’

অথচ এই শিল্পীদের তৈরি বাঁশের জিনিস খোলা বাজারে চড়া দামে বিকোচ্ছে। ছটব্রতীরা সেগুলি সেই দামেই কিনছেন। শহরের বাজারগুলোতে খোঁজ নিলেই জানা যাবে, একটা কুলো বিকোচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে। আর ডালির দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু প্রশ্ন হল, সেই টাকার কত শতাংশ আসলে নেপথ্যে থাকা ওই শিল্পীদের ঘরে পৌঁছাচ্ছে?



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *