শুভাশিস বসাক, ধূপগুড়ি: ধূপগুড়ির (Dhupguri) প্লাবনকবলিত এলাকায় এবার আলু চাষ হবে না। পলি জমে জমির অবস্থা খারাপ। আর্থিক ক্ষতি সামলাতে সবজি চাষে ঝুঁকছেন হোগলাপাতা, কুল্লাপাড়া ও বগরিবাড়ির কৃষকরা। কৃষি দপ্তর ও উদ্যানপালন (হর্টিকালচার) দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধান ও সবজি মিলিয়ে গধেয়ারকুঠি গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েকশো হেক্টর জমির উৎপাদন ফেরানো সম্ভব নয়। এই এলাকার ৩০০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে আলু চাষ হত। সেখানে এবছর সবজি চাষের জন্যে চেষ্টা করা হচ্ছে। পলি সরিয়ে ওই জমির ধান গাছ পরিষ্কার করা হচ্ছে। পরবর্তীতে আলুর বদলে গাজর ও অন্যান্য সবজি চাষ করা হবে সেখানে। জলপাইগুড়ি জেলার উপ কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) সুমিত বসাক জানান, শনিবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক রয়েছে। ওই বৈঠকের পরই সবটা বলা সম্ভব হবে।
রাজ্য কৃষি দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ওঙ্কার সিং মিনার চিঠি পেয়ে ইতিমধ্যে উদ্যানপালন দপ্তর গাজরের বীজ বরাদ্দও করেছে ওই এলাকার জন্য। জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের আধিকারিক অলোককুমার মণ্ডল বলেছেন, ‘ওই এলাকার জন্য গাজরের বীজ বরাদ্দ করা হয়েছে। বাকি ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কৃষি দপ্তরই বলতে পারবে।’
বগরিবাড়ি এলাকার কৃষক পরিতোষ মণ্ডল জানান, ১০০ হেক্টরের বেশি জমিতে প্রাক মরশুমে আলু চাষ হত। তারপরে মূল মরশুমে ওই জমিতে দ্বিতীয়বার আলু চাষ হত। কিন্তু পলি জমে জমির ক্ষতি যা হয়েছে তাতে আলু চাষ করা কোনওভাবেই আর সম্ভব নয়। তাই সবজি চাষের দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃষি দপ্তরের এক আধিকারিকের কথায়, হোগলাপাতা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে সবজি চাষ করাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। কারণ ওই এলাকায় পলি জমে গোটা জমিই ক্ষতির মুখে পড়েছে। পলি সরিয়েই জমি ফসল ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না।’
ইতিমধ্যে পে লোডার, আর্থমুভার দিয়ে পলি সরানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। মূলত কুর্শামারি, হোগলাপাতা, বগরিবাড়ি এলাকায় আলুর সঙ্গে ‘সাথি ফসল’ হিসেবেও সবজি চাষ করত অনেকেই। স্থানীয় কৃষক প্রকাশ রায় বলেন, ‘ধান, সবজি সবেরই ক্ষতি হয়েছে। এখন আলু চাষের ভাবনা থাকলেও তা এবছর সম্ভব নয়। পলি সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। আলু চাষ করে অন্যান্যবারের মতো আর্থিক লাভের আশা ছিল। কিন্তু তা এবার আর হবে না। তাই গাজর ও অন্যান্য সবজি চাষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
