বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের কাজ হয়ে উঠেছে উপার্জনের নতুন দিক। রায়গঞ্জ (Raiganj) ব্লকের কমলাবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ছত্রপুরের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা জৈব সার (Natural Fertilizer) তৈরি করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন। সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে শাকসবজির ফেলে দেওয়া অংশ ও অন্যান্য পচনশীল জঞ্জাল সংগ্রহ করে আনা হয়। তারপর তার সঙ্গে গোবর মিশিয়ে কেঁচোর সাহায্যে জৈব সার তৈরি করছেন মহিলারা। সেই সার ভালো বিক্রিও হচ্ছে। চাহিদা থাকায় স্বাভাবিকভাবে আয়ও বাড়ছে। সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের পাইলট প্রোজেক্ট হিসাবে কাজটি শুরু হয়েছিল। রাজ্য সরকারের সহায়তা ও জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে কাজ চলছে। ২০১৭-তে কাজটি শুরু করেন মহিলারা।
এই প্রকল্পে যুক্ত সুপারভাইজার মাফুজা খাতুন বলেন, ‘প্রথমে অনেকে কাজে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। কিন্তু বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফেলে দেওয়া আবর্জনা সংগ্রহ করে এনে তা থেকে জৈব সার তৈরির উপাদান বাছাই করার কাজ পরে কেউ কেউ করতে চাননি। কারণ অত্যন্ত দুর্গন্ধময় পরিবেশে কাজ হয়। পরে লাভের মুখ দেখতে পেয়ে আবার মহিলাদের আগ্রহ এব্যাপারে বেড়েছে। এখন আমরা বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ১৩ জন এই কাজ করছি।’ মাফুজা সংঘ নেত্রী হিসেবে দিনপ্রতি ৩০০ টাকা ও অন্যরা দিনপ্রতি ২১০ টাকা করে সরকারের কাছ থেকে পান বলে জানিয়েছেন। এছাড়া আবর্জনা সংগ্রহ করার জন্য বাড়িপ্রতি মাসিক ৪০ টাকা করে সংগ্রহ করা হয়। সেই টাকা প্রকল্পের নামে তৈরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত জমা হয়। এছাড়া ১৬০০ টাকা কুইন্টাল দরে জৈব সার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সরবরাহ করেন মহিলারা।
শাকসবজি, ফলমূলের ফেলে দেওয়া অংশের সঙ্গে গোবর মিশিয়ে তার মধ্যে কেঁচো ছেড়ে একটি বেড তৈরি করা হয়। বেড থেকে জৈব সার তৈরি হতে প্রায় তিন মাস লেগে যায়। প্রথম দু’বছর সরকার আর্থিক সাহায্য করলেও পরে নিজেরাই সার তৈরি করে বাজারে বিক্রি করেন গোষ্ঠীর সদস্যারা। এনিয়ে উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি পম্পা পাল বলেন, ‘সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে আমাদের নির্মল বাংলা মিশন কর্মসূচি সফল হওয়ার পাশাপাশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারাও আর্থিকভাবে উন্নতি করার সুযোগ পেয়েছেন। এটা সরকারের একটি বড় সাফল্য বলেই মনে করি।’ কাজের সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পাসে এই কাজের জন্য আরও ছয়টি মেশিন বসানোর কাজ চলছে।
