দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: দোলের আবহে রংয়ের বদলে রাজনীতির ছোঁয়া লাগল রায়গঞ্জে। এর আগে একবার দুর্গাপুজোর ভিড়ে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি উঠেছিল। তা নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বসন্ত উৎসবের প্রাঙ্গণে শোনা গেল সেই একই স্লোগান। তাও আবার স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণীর (Krishna Kalyani) উপস্থিতিতে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ (Raiganj) শহরে।
মঙ্গলবার দুপুরে রায়গঞ্জের সুভাষগঞ্জ হাইস্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত বসন্ত উৎসবে যোগ দিতে এসেছিলেন বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। উৎসবের আমেজে কিশোর-কিশোরী ও সাধারণ মানুষের ভিড় উপচে পড়েছিল। বিধায়ক যখন মঞ্চে উঠে সকলকে দোলের শুভেচ্ছা জানাতে শুরু করেন, ঠিক তখনই উপস্থিত একদল কিশোর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে শুরু করে। পরিস্থিতি আঁচ করে তড়িঘড়ি উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মঞ্চ ছাড়েন বিধায়ক।
এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিজেপি ও এবিভিপি। এবিভিপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শুভব্রত অধিকারীর কটাক্ষ, ‘দলবদলে অভ্যস্ত বিধায়ক সিঁদুরে মেঘ দেখে ভয় পেয়েছেন। রায়গঞ্জের দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, বিধায়ক কি তা পড়তে পারছেন?’ বিজেপির (BJP) জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজও সুর চড়িয়ে বলেন, ‘গোটা বাংলা এখন জয় শ্রীরামের ভক্ত। মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবাদ ও দেশাত্মবোধ জেগে উঠেছে।’
পালটা জবাব দিতে ছাড়েননি কৃষ্ণ কল্যাণীও। তাঁর দাবি, ‘শুভেচ্ছা জানানোর সময় কোনও স্লোগান আমার কানে আসেনি। কেউ জয় শ্রীরাম বলতেই পারেন, তাতে কোনও সমস্যা নেই। আর বিজেপি ধর্ম নিয়ে উসকানি দিলেও কোনও গঠনমূলক কাজ করে না।’ জয় শ্রীরাম ধ্বনির পাশাপাশি উৎসবের এই আবহে তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন জায়গায় উৎসবের মঞ্চে কৃষ্ণ থেকে শুরু করে প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত বা বিজেপি নেতা বিভাস বিশ্বাসকে দেখা গেলেও, গরহাজির ছিলেন রায়গঞ্জ পুরসভার প্রশাসক সন্দীপ বিশ্বাস। তিনি উৎসবে যোগ না দিয়ে নিজের ওয়ার্ডে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ নিয়ে জনসংযোগ করেছেন। তবে প্রতিবছর রায়গঞ্জ করোনেশন হাইস্কুল, নেতাজিপল্লি, দেবীনগর সহ বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠিত বসন্ত উৎসবে সন্দীপ শামিল হন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রশ্ন করলে সন্দীপের জবাব, ‘জনসংযোগে ব্যস্ত ছিলাম বলে এবছর দোল উৎসবে শামিল হতে পারিনি।’
