Siliguri | ভোটের তাগিদে উন্নয়নের প্রতিযোগিতা

Siliguri | ভোটের তাগিদে উন্নয়নের প্রতিযোগিতা

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি: ভোট আসন্ন। তাই শিলিগুড়ি পুরনিগম এলাকায় (Siliguri) উন্নয়নমূলক কাজের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। আর এই সূত্রেই একই জায়গায় একই কাজের দু’বার করে বরাত হচ্ছে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ নিজের বিধায়ক উন্নয়ন তহবিল কিংবা রাজ্যের কোনও সাংসদ, বিধায়কের উন্নয়ন তহবিল থেকে শিলিগুড়ি পুরনিগম এলাকায় কাজের জন্যে অর্থবরাদ্দ করাচ্ছেন। ওই জায়গাতেই আবার শিলিগুড়ি পুরনিগম উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর থেকে আরও বেশি অর্থবরাদ্দ করে কাজের টেন্ডার করাচ্ছে। এর ফলস্বরূপ দুটি পৃথক এজেন্সির মাধ্যমে একই জায়গায় একই কাজ শুরু হয়ে যাচ্ছে। মাঝখান থেকে শাসক ও বিরোধীর এই লড়াইয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকা উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত থাকছে বলে অভিযোগ।

আরও অভিযোগ, সমন্বয়ের অভাবের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। যদিও শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের দাবি, তিনি যখন বিধায়ক ছিলেন তখন পুরনিগমকে চিঠি দিয়ে কাজ করতেন। এতে সমন্বয় থাকত এবং একই কাজ দু’বার করে হত না। কিন্তু শিলিগুড়ির বিধায়ক সেটা করছেন না। গৌতমের বক্তব্য, ‘অশোকদা (অশোক ভট্টাচার্য) জানেন, আমি যখন বিধায়ক ছিলাম কোনও কাজ করার সময় একবার পুরনিগমকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিতাম। এতে কোনও সমস্যাই হত না।’ উলটোদিকে বিধায়ক শংকর ঘোষের বক্তব্য, ‘মেয়র সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তিনি সময় দেন না। বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের টাকা তুলে দিতে চাইলে নিতে চান না। উনি ডকেটের চিঠিও দেখার সময় পান না। মানুষের কাছে অসত্য কথা তুলে ধরলে হবে না।’

সম্প্রতি শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তা এবং নিকাশিনালার কাজের জন্যে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। শিলিগুড়ির পদ্ম বিধায়কের দাবি, শমীককে বলে তিনি ওই বরাদ্দ নিয়ে এসেছিলেন। সেখানেই শিলিগুড়ি পুরনিগমের পক্ষ থেকে একই কাজের জন্যে ২৭ লক্ষ ৪৬ হাজার ৮৮৪ টাকা ব্যয়ে রাস্তা ও নিকাশিনালার কাজ নেওয়া হয়েছে। পুরনিগমের দাবি, ওই কাজের টেন্ডার এবং ওয়ার্ক অর্ডার আগেই হয়ে গিয়েছিল। তাই ওই টাকা পুরনিগমের অন্য কোনও এলাকার উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করতে পারেন বলে শমীককে শিলিগুড়ি পুরনিগমের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একইরকমভাবে উদয়ন সমিতির সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্যে শিলিগুড়ির বিধায়কের উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। শিলিগুড়ি–জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসজেডিএ) কাজ শুরু করে দিয়েছিল। কিন্তু মাঝপথে সেই কাজ বন্ধ করে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর (এনবিডিডি) থেকে একই এলাকার জন্যে প্রায় ৩৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করিয়ে মেয়র কাজের শিলান্যাস করেন। এই বিষয়গুলি থেকেই স্পষ্ট যে, নির্বাচন আসতেই দুই পক্ষই শহরের উন্নয়নে ব্রতী হওয়ার চেষ্টা শুরু করেছে। কিন্তু এই প্রতিযোগিতায় আখেরে শহরের উন্নয়ন মার খেতে বসেছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *