Raiganj | বাড়িতে নালার জল, রাস্তায় ঘুরছে মাছ! টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন রায়গঞ্জ 

Raiganj | বাড়িতে নালার জল, রাস্তায় ঘুরছে মাছ! টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন রায়গঞ্জ 

ব্লগ/BLOG
Spread the love


রায়গঞ্জ: টানা বৃষ্টিতে কার্যত জলমগ্ন রায়গঞ্জ (Raiganj) শহর। একাধিক পাড়ায় বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়েছে জল। কোথাও রাস্তার জমা জলে জাল ফেলে মাছ ধরছেন বাসিন্দারা, কোথাও আবার জল-যন্ত্রণার প্রতিবাদে পথ অবরোধে নেমেছেন ক্ষুব্ধ নাগরিক। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে একই ছবি। বাসিন্দারা দুষছেন বেহাল নিকাশি ব্যবস্থাকে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার বাসিন্দা। রবীন্দ্রপল্লি, অশোকপল্লি, নেতাজিপল্লি, বীরনগর, মিলনপাড়া, শক্তিনগর, পূর্বাশাপাড়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকা এখন জলের তলায়। শিক্ষিকা অনিন্দিতা দাস ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘যতদিন রায়গঞ্জের রাস্তাঘাট চলাচলের উপযোগী না হয় ততদিন বৃষ্টিবহুল দিনগুলিতে সরকারি কার্যালয় যেন বন্ধ রাখে। এভাবে এক হাঁটুজল ঠেলে কর্মক্ষেত্রে যাওয়া যায় না।

সোমবার সকালে একটানা বৃষ্টিতে (Rain) বিদ্রোহী মোড় ও হাসপাতাল রোড জলমগ্ন (Waterlogging) হয়ে পড়ে। বহু বাড়িতে জল ঢুকে যাওয়ায় রান্নাবান্না, পানীয় জল সংগ্রহ থেকে শিশু ও প্রবীণদের চলাফেরা- সবই ব্যাহত হয়েছে। স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, কর্মজীবী মানুষ এবং প্রবীণদেরও চরম সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। রবীন্দ্রপল্লির বাসিন্দারা রবিবার জল-যন্ত্রণার প্রতিবাদে পথ অবরোধ করেছিলেন। কিন্তু তারপরেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ। দক্ষিণ বীরনগরে আবার রাস্তার জমা জলে জাল ফেলে মাছ ধরতে দেখা যায় স্থানীয়দের। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শহরের একের পর এক পুকুর ভরাট হলেও নতুন করে খননের উদ্যোগ নেই। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জল দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। স্কুল রোডের বাসিন্দা গোপাল দাস বলছিলেন, ‘জন্মাবধি এই পাড়ায়, অরুণ ঘোষ সরণির উপর বাড়ি। তাও নয় নয় করে একচল্লিশ বছর। আগে তো এরকম অবস্থা হত না। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে দুর্নীতিগ্রস্ত পুর বোর্ডের জন্যই এভাবে গলিতে জল জমতে দেখছি।’ তাঁর সরাসরি অভিযোগ, পুরবোর্ডের কেষ্টবিষ্টুদের দখল করা পুকুর, ডোবা, জলা, নয়ানজুলি ভরাটের কারণে রায়গঞ্জের নীচু পাড়া বীরনগর, রবিন্দ্রপল্লি, অশোকপল্লির মতো এলাকার এই করুণ অবস্থা। একই সুরে ক্ষোভ প্রকাশ করে দক্ষিণ বীরনগরের বাসিন্দা, অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিক কমলেশ নন্দী বলেন, ‘আমাদের এলাকা সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যায়। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই সমস্যা ভোগ করে আসছি। সমস্যা সমাধানে পুরসভার কোনও উদ্যোগ নেই।’

এদিন জল জমার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বিদ্রোহী মোড় ও হাসপাতাল এলাকার ব্যবসায়ীরা। একাধিক দোকানে জল ঢুকে নষ্ট হয়েছে পণ্য। ব্যবসায়ী চন্দন ভৌমিক বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষার সময় একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। জল জমে থাকার কারণে ক্রেতাদের আনাগোনাও কমে যায়, ফলে ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।’ আরেক ব্যবসায়ী প্রবীর চৌধুরীর কথায়, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই জলাবদ্ধতার সমস্যা চলছে। আমরা চাই শহরের নিকাশিনালাগুলির সংস্কার, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং আধুনিক নিকাশি ব্যবস্থা।’

এদিকে, জল-যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পূর্বাশাপাড়ার নাগরিক কমিটির সদস্যরা এদিন রায়গঞ্জ পুরসভায় গিয়ে ডেপুটেশন দেন। নাগরিক কমিটির সম্পাদক বিশ্বদীপ চক্রবর্তী বলেন, ‘অবিলম্বে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং নিকাশি ব্যবস্থার স্থায়ী উন্নয়নের উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমরা মাসের পর মাস জলের মধ্যে ডুবে আছি।’

প্রতি বর্ষাতেই একই ভোগান্তির পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে অভিযোগ শহরবাসীর। তাঁদের দাবি, সাময়িক ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদি মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে আধুনিক নিকাশি ব্যবস্থাই এই সমস্যার একমাত্র স্থায়ী সমাধান। ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আত্রেয়ী সেনগুপ্ত বলেন, ‘পুরসভা এতদিন কোনও মাস্টার প্ল্যান করে নিকাশিনালাগুলি তৈরি না করায় আমাদের জলে ডুবে থাকতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ঘরে জল ঢুকে গিয়েছে।’ একইরকমভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শক্তিনগর ও মিলনপাড়ার বাসিন্দা দীপা রায়, তনু সাহা, বিশ্বরূপ দত্ত সহ অন্যরাও।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *