রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ (Raiganj) পঞ্চায়েত সমিতি পরিচালিত কুলিক ইকো পার্কে (Kulik Eco Park) বৃহস্পতিবার আচমকাই অভিযান চালাল বজরং দলের একটি প্রতিনিধি দল। প্রায় ৫০ জন গেরুয়া উত্তরীয় পরা যুবক একযোগে পার্কের ভেতরে ঢুকে অশালীন কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে একাধিক জনকে ধরে ফেলে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইকো পার্ক চত্বরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকেই নিরাপত্তার ভয়ে তড়িঘড়ি পার্ক ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
দীর্ঘদিন ধরেই রায়গঞ্জের এই ঐতিহাসিক পার্কটিতে তরুণ-তরুণীদের একাংশের অশালীন আচরণ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভ্রমণার্থীদের ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল। বাসিন্দাদের দাবি, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার সুযোগে শিশুদের এই বিনোদন কেন্দ্রটি অসামাজিক কার্যকলাপের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়েছিল। অভিভাবকরা শিশুদের নিয়ে পার্কে আসা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন। স্থানীয়দের এই অভিযোগকে হাতিয়ার করেই এদিন বজরং দলের সদস্যরা প্রথমে রেইকি চালিয়ে পার্কের ভেতরে ঢোকে এবং প্রায় ৩০ জোড়া তরুণ-তরুণীকে ঘিরে ধরে কড়া সতর্কবার্তা দেয়।
তবে বজরং দলের এই ভূমিকা নিয়ে রায়গঞ্জের সুশীল সমাজ ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এসএফআই নেতা বিবেক বর্মণ ও সাধারণ নাগরিকদের প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং পার্কের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব সম্পূর্ণ পুলিশ ও পঞ্চায়েত সমিতির। বজরং দল কীভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে পার্কের ভেতরে ঢুকে সাধারণ মানুষকে শাসন করার অধিকার পায়? প্রশাসন কীভাবে এমন ঘটনা ঘটতে দিল, তা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অনেকে।
ঘটনা প্রসঙ্গে বজরং দলের প্রতিনিধি সঞ্জিত দাস জানান, অশালীনতা রুখতেই তাঁদের এই সচেতনতামূলক পদক্ষেপ ছিল এবং কারও ওপর শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি। অন্যদিকে, ঘটনার সময় বাইরে পুলিশ থাকলেও ভেতরে স্বতঃপ্রণোদিত প্রবেশের অনুমোদন নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সমগ্র বিষয়ে রায়গঞ্জের বিডিও (BDO) সুব্রত ঘোষ জানান, পার্কের বর্তমান পরিস্থিতি ও বৃহস্পতিবারের ঘটনা সম্পর্কিত বিস্তারিত রিপোর্ট খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

