উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ দেশজুড়ে তীব্র ছাত্র আন্দোলন এবং বিরোধীদের লাগাতার চাপের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থার বিরুদ্ধে যুবসমাজের এই আন্দোলনকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠনের পথে একটি ‘বিরাট পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর এক ভিডিও বার্তায় আন্দোলনরত ছাত্রসমাজকে কুর্নিশ জানিয়ে তিনি বলেন, “শাবাস দেশের ছাত্রসমাজ, তোমাদের সকলের জন্য আমরা গর্বিত।”
धर्मेंद्र प्रधान का इस्तीफा हमारे schooling system को फिर से संवारने की दिशा में बहुत बड़ा कदम है।
शाबाश देश भर के छात्रों, आप सभी पर गर्व है।
सड़कों पर आ कर लोकतंत्र, संविधान और अपने भविष्य की रक्षा में डट कर खड़े होने वाले हर एक युवा, हर छात्र को बहुत-बहुत बधाई।
2 मांगें… pic.twitter.com/Uc2cEOCVKA
— Rahul Gandhi (@RahulGandhi) July 25, 2026
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিট প্রশ্নফাঁস ও বেকারত্ব ইস্যূতে রাজপথে নেমেছিল সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা। এই আন্দোলন দমাতে গিয়ে বিগত দিনে নানা দমনপীড়নের মুখোমুখি হতে হয়েছে পড়ুয়াদের। তবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ আদায় করে নেওয়াকে বড় বিজয় হিসেবে দেখছে ছাত্রসমাজ।
রাহুল গান্ধী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “এটি আমাদের পড়ুয়াদের বিজয়। তাঁরাই ভারতের ভবিষ্যৎ। বছরের পর বছর ধরে দেশের গর্বের শিক্ষাব্যবস্থাকে আক্রমণ ও বেসরকারিকরণের চেষ্টা চালানো হচ্ছিল, যার বিরুদ্ধে এটি এক সুনির্দিষ্ট প্রতিবাদ।” একই সঙ্গে সমাজমাধ্যমের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “ডরো মত! রুখে দাঁড়ানোর মধ্যে সাহস আছে, এই জমানাকে হঠাতে হবে।”
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগপত্র জমা পড়ার পরেই সরকারকে হুশিয়ারি দিয়ে বিরোধী দলনেতা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, এখনও আরও দুটি প্রধান দাবি পূরণ বাকি রয়েছে:
১. দোষীদের শাস্তি: গত ২০ জুলাই সংসদ অভিযান ও আন্দোলনের সময় যে সমস্ত পুলিশ ও আধিকারিকরা পড়ুয়াদের ওপর হামলা চালিয়েছিলেন, লাঠিচার্জ বা হিংসা ছড়িয়েছিলেন, তাঁদের কঠোর আইনি শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
২. প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা: আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর যে বর্বরতা চালানো হয়েছে, তার জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিজ দায়িত্বে ছাত্রসমাজের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
ছাত্র আন্দোলনের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ সামাল দিতে এবং প্রশ্নফাঁস চক্রের দৌরাত্ম্য রুখতে গত দুই দিনে একাধিক বড় পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। পরীক্ষার জালিয়াতি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, আইন আরও কঠোর করার পরিকল্পনা এবং এনটিএ (NTA)-র শীর্ষ স্তরে বড়সড় রদবদল এনে প্রায় ৪৭ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে সরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই পদত্যাগ মোদী সরকারের জমানায় ছাত্র আন্দোলনের চাপে কোনো প্রবীণ মন্ত্রীর সরে দাঁড়ানোর বিরল ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম।

