উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: কলকাতা (Kolkata) ইসকন (ISKCON) থেকে কি কার্যত ব্রাত্য করে দেওয়া হল সংগঠনের পরিচিত মুখ রাধারমণ দাসকে (Radharaman Das)! রবিবার ইসকন কর্তৃপক্ষ তাঁকে সহ-সভাপতির পদ থেকে অপসারিত করার পাশাপাশি সংগঠনের সমস্ত দায়-দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। এখন থেকে সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে কোনো সরকারি মঞ্চ, সংবাদমাধ্যম বা জনসমক্ষে তিনি আর প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না—এমনটাই নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্বয়ং রাধারমণ দাস সমাজমাধ্যমে নিজের অপসারণের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনা এবং তাঁর জনমত প্রকাশের ধরনকেই এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে দেখিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কারণগুলোর তালিকায় রয়েছে:
- বাংলাদেশ ইস্যু: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং বিশেষ করে চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের কারাবাসের বিষয়ে তাঁর সোচ্চার ভূমিকা।
- রাজনৈতিক টানাপোড়েন: কেন্দ্রীয় নেত্রী মেনকা গান্ধীর বিরুদ্ধে আইনি নোটিস পাঠানো।
- সোশ্যাল মিডিয়া ও বিতর্ক: কৌতুকশিল্পী সুরলীন কৌরের বিরুদ্ধে সাইবার অভিযোগ দায়ের এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রথযাত্রার সংযোগ নিয়ে পোস্ট।
রাধারমণ দাসের এই হঠাৎ অপসারণকে ঘিরে রাজ্য-রাজনীতিতে জল্পনার শেষ নেই। অতীতে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে তাঁর সরব উপস্থিতি প্রায়ই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকত।
কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সম্মান জানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাধারমণ দাস। স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এখন থেকে ইসকনের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলবেন না তিনি। ব্যক্তিগত মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংগঠনের স্বার্থের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত সংগঠনের নিয়মকেই মেনে নিলেন তিনি। এই রদবদল ইসকনের অন্দরে কতটা প্রভাব ফেলে এবং রাধারমণ দাস ভবিষ্যতে নতুন কোনো পথে হাঁটবেন কি না, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক মহলে তুঙ্গে আলোচনা।

