কমিকস থেকে শুরু জাপানের ফুটবল রূপকথা! ‘স্বার্থপর’ হয়েই বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ‘মাঙ্গা’?

কমিকস থেকে শুরু জাপানের ফুটবল রূপকথা! ‘স্বার্থপর’ হয়েই বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ‘মাঙ্গা’?

সিনেমা/বিনোদন/থিয়েটার
Spread the love


‘প্রোজেক্ট ২০৫০’। জাপানের এই পরিকল্পনা সম্বন্ধে নিশ্চয়ই অনেকে জানেন। ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) জিততেই হবে। তার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিয়ে ফেলেছে জাপানের ফুটবল ফেডারেশন। এবার যদি বলা যায়, এই ‘পোজেক্টে’র নেপথ্যে রয়েছে এক মাঙ্গা সিরিজ! তাহলে কি বিশ্বাস করবেন? আরও পিছনো যাক। আজ থেকে ৩২ বছর আগেই বিশ্বকাপ জয়ের ব্লু প্রিন্ট ছকে ফেলেছে জাপান (Japan Soccer Workforce)। যখন সেদেশে সদ্য পেশাদার লিগ শুরু হয়েছিল। তারও নেপথ্যে ছিল এক মাঙ্গা। সেদিনের ‘ক্যাপ্টেন সুবাসা’ থেকে আজকের ‘ব্লু লক’। জাপানের ফুটবল রূপকথা জুড়ে রয়েছে মাঙ্গা। তার সূত্র ধরেই এখন কি জাপানিরা চাইছে ‘স্বার্থপর’ ফুটবলার তৈরি করতে?

‘মাঙ্গা’ শব্দটি এখন ভারতে সুপরিচিত। তবু বলে রাখা যাক, মাঙ্গা হল জাপানের কমিকস বুক বা গ্রাফিক্স নভেল। তার রীতি, রেওয়াজ, আঁকার ধরন সবটাই তাদের নিজস্ব। কার্টুন নয়, আবার ঠিক চিরাচরিত কমিকসও নয়। ছবি-লেখা-গল্পে জাপানি সংস্কৃতির ধারক হল মাঙ্গা। তা এর সঙ্গে ফুটবলের কী সম্পর্ক? আছে আছে। গত শতাব্দীর আটের দশকের শুরুতে জাপানে ফুটবল নিয়ে কোনও মাতামাতি ছিল না। লোকে ছুটির দিনে একটু-আধটু মাঠে নামত। দেশজুড়ে পেশাদার লিগ ছিল না। বেসবল ছিল জাপানিদের প্রথম প্রেম। সেই সময় আবির্ভাব ‘ক্যাপ্টেন সুবাসা’র। জাপানের ক্রীড়াজগতে যেন নতুন সুবাস নিয়ে এল সে। ১৯৮১ সালে ইয়োচি তাকাহাসির হাতে সুবাসার সফর শুরু। মাঙ্গা চরিত্র নয়, সুবাসা হয়ে উঠল প্রত্যেক জাপানি কিশোরের আইকন। তার মতো বাইসাইকেল কিক মারতে হবে, বিদেশের মাটিতে পারফর্ম করতে হবে, দেশকে বিশ্বকাপে তুলতে হবে।

আরও পড়ুন:

Japan football team's jersey for the 2022 World Cup was inspired by manga
মাঙ্গার অনুপ্রেরণায় ২০২২-র বিশ্বকাপে জাপানের ফুটবল জার্সি

মাঙ্গার পর এল অ্যানিমেটেড সিরিজ। গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ল সুবাসার নাম। কোথাও স্বনামে, কোথাও বা সেদেশের মতো করে নামবদল করা হল। লিওনেল মেসি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, ফার্নান্দো তোরেসের মতো তারকা ফুটবলাররা পর্যন্ত স্বীকার করেন, সুবাসা তাঁদের কতটা প্রভাবিত করেছে। জাপানের কিংবদন্তি হিদেতোশি নাকাতার ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল, বেসবল খেলোয়াড় হবেন। সুবাসার প্রেমে পড়ে শুরু করেন ফুটবল খেলা। নাকাতার মতো কয়েক হাজার কিশোর নাম লেখাল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ফুটবল অ্যাকাডেমিতে। সুবাসার আবির্ভাবের ১০ বছরের মধ্যে জাপানে শুরু হল জে লিগ। সেই বছরই ঠিক করে নেওয়া হয়, আগামী ১০০ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপ জিততেই হবে। যা এখন এসে দাঁড়িয়েছে ‘প্রোজেক্ট ২০৫০’-এ। ১৯৯২ সালে জাপান প্রথম এশিয়ান কাপ জেতে। আর দু’বছর পর সুবাসার সিরিজ বন্ধ হয়ে যায়। ততদিনে চলে এসেছে আয়োশির মতো চরিত্র, জায়ান্ট কিলিং, ইনাজুমা ইলেভেনের মতো মাঙ্গা।

Japanese manga Captain Tsubasa, inspiration of Japan Football Team
জাপানি মাঙ্গা ক্যাপ্টেন সুবাসা

১৯৯৮ সালে জাপান প্রথম বিশ্বকাপে সুযোগ পায়। সেই দলের সব প্লেয়ার তখন জাপানের লিগেই খেলতেন। এরপর কাজুয়োশি মিউরা, কেইসুকে হোন্ডা, শিঞ্জি কাগাওয়ার মতো ফুটবলাররা ইউরোপে খেলেছেন, সফল হয়েছেন। কিন্তু একটা সমস্যা থেকেই গিয়েছে। জাপান থেকে দুর্দান্ত অ্যাটাকিং মিডফিল্ডাররা উঠে এসেছেন। খেলা তৈরি করতে ‘সিদ্ধহস্ত’। কিন্তু কখনই বিশ্বমানের ‘বক্স স্ট্রাইকার’ তৈরি হয়নি। কেন? এর নেপথ্যেও ক্যাপ্টেন সুবাসা। যেহেতু এই চরিত্রটিও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ছিল, তাই জাপানের তরুণ প্রজন্ম সুবাসার মতো হতে চেয়েছিল। স্ট্রাইকারের অভাব বহুদিন ধরে জাপানের বড় সমস্যা।

The Japanese manga Blue Lock, inspires Japan Football Team
জাপানি মাঙ্গা ‘ব্লু লক’

সেখান থেকে চলে আসা যাক ২০২৬ সালে। অধিকাংশ ফুটবলার ইউরোপ মাতাচ্ছেন। গত মরশুমে আয়াসে উয়েদা ডাচ লিগে ২৫ গোল করেছেন। স্কটিশ লিগে দাইজেন মায়েদা ১৪ গোল, বুন্দেশলিগায় রিৎসু দোয়ান ৫ গোল, লা লিগায় তাকেফুসা কুবো ২ গোল করেছেন। এবার বিশ্বকাপে জাপান গ্রুপ পর্বে ৭টা গোল করেছে। স্পেনের থেকে বেশি, ব্রাজিলের সমান। যা দেখে মনে পড়তে পারে আরও একটা মাঙ্গার কথা। যার নাম ‘ব্লু লক’। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে শেষ ১৬ থেকে বিদায় নেয় জাপান। সেই ‘যন্ত্রণা’ ঘোচাতে এল ‘ব্লু লক’। গল্পটা কী? জাপানের ব্যর্থতায় একটি বিশেষ ক্যাম্প চালু হয়। যেখানে ৩০০ জন জাপানি স্ট্রাইকারকে শেখানো হয় ‘স্বার্থপর’ হতে। তাদের মাধ্যমেই স্বর্ণযুগ আনা হয় জাপানি ফুটবলে। ২০২২ সালে জাপানের বিশ্বকাপ জার্সিতেও ‘ব্লু লক’কে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে এই মাঙ্গার গল্প ২০২৬-র আগস্টে। অর্থাৎ বিশ্বকাপের পর। অর্থাৎ এখনও সেই স্ট্রাইকার তৈরি হয়নি। মায়েদা, দোয়ানরা সেই পথই তৈরি করে দিচ্ছেন জাপানের ২০৫০-র বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে? উত্তরটা সময়ই দেবে।

Japan Football Team
জাপান ফুটবল দল

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *