চোপড়া: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর সংঘটিত রাজনৈতিক হিংসা এবং লুটপাটের অভিযোগে অবশেষে গ্রেফতার হলেন চোপড়ার দুই দাপুটে নেতা (Put up Ballot Violence)। শনিবার রাতে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে চোপড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান তথা বর্তমান কংগ্রেস নেতা মহম্মদ হানিফ এবং প্রাক্তন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য নাইমুল হক-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই গ্রেফতারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকেই চোপড়া ও ইসলামপুর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর চোপড়া এলাকায় ব্যাপক হিংসা ছড়ানো, সাধারণ মানুষের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই পুরনো সুনির্দিষ্ট মামলার দীর্ঘ তদন্তের পর এবং উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই শনিবার রাতে এই দুই রাজনৈতিক নেতাকে পাকড়াও করে চোপড়া থানার পুলিশ। ধৃতদের রবিবার কড়া নিরাপত্তায় ইসলামপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে।
এদিকে, এই গ্রেফতারি ঘিরে চোপড়ার রাজনৈতিক অন্দরে নতুন করে চর্চা ও সমীকরণ তৈরি হতে শুরু করেছে। এদিন চোপড়া থানা থেকে বের করে যখন তাঁদের ইসলামপুর মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন ধৃত প্রাক্তন প্রধান মহম্মদ হানিফ। তিনি দাবি করেন, “২০২১ সালের গন্ডগোলের ঘটনায় দায়ের হওয়া মূল মামলাটিতে আমি ইতিমধ্যেই আদালত থেকে জামিন পেয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আমাদের ওপর পুনরায় নতুন করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যার ভিত্তিতেই পুলিশ এই গ্রেফতারি অভিযান চালিয়েছে।”
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল এবং নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতির পর উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় এই দুই হেভিওয়েট নেত্রের গ্রেফতারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে জেলার রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল। ঘটনার পেছনে আর কোনও পুরনো হিংসার মামলা জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
