Puri | পুরীর বিখ্যাত খাজাতেও ভেজালের বিষ! অভিযান চালিয়ে চার কুইন্টাল অস্বাস্থ্যকর মিষ্টি নষ্ট করল প্রশাসন

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: মহাপ্রভু জগন্নাথদেবের ধাম ওডিশার (Odisha Information) পুরী (Puri) বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সমুদ্রের নীল জলরাশির পাশাপাশি সেখানকার অন্যতম আকর্ষণীয় এবং ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ‘খাজা’ (Khaja)। মন্দির চত্বর থেকে শুরু করে স্বর্গদ্বার সমুদ্রসৈকত—সর্বত্র সারিবদ্ধ খাজার দোকানগুলোর আকর্ষণ এড়ানো পর্যটকদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। পুরী থেকে ফেরার সময় আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে এই খাজা উপহার দেওয়ার রেওয়াজ বাঙালি পর্যটকদের মধ্যে চিরকালই প্রবল। কিন্তু তীর্থক্ষেত্রের সেই জনপ্রিয় ও মুখরোচক এই খাদ্যের গুণমান নিয়েই এবার উঠে এসেছে প্রশ্ন, যা সাধারণ মানুষের মনে গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। ভক্তদের কাছে অতিরিক্ত চড়া দামে নিম্নমানের এবং নকল খাজা বিক্রির একাধিক অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই জমা হচ্ছিল প্রশাসনের দপ্তরে।

এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সম্প্রতি পুরী মন্দির সংলগ্ন এলাকা ও স্বর্গদ্বার সৈকত চত্বরের খাজার দোকানগুলিতে যৌথভাবে হানা দেয় রাজ্য সরকারের খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর ও পুলিশ। সিটি ডিএসপির নেতৃত্বে পরিচালিত এই বিশেষ আকস্মিক অভিযানে শ্রীকৃষ্ণ সিনেমা লেন, বড়দণ্ড, স্বর্গদ্বার এবং সংলগ্ন বিভিন্ন জনবহুল এলাকার দোকানগুলি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তে নেমে আধিকারিকরা দেখতে পান যে, দোকানগুলোর একটিও ন্যূনতম খাদ্য সুরক্ষার নিয়ম বা পরিচ্ছন্নতার মানদণ্ড মেনে চলছে না। অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর এবং নোংরা পরিবেশে খাজা প্রস্তুত করা হচ্ছিল, যার ফলে ক্রেতাদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি আপস করা হচ্ছিল।

তদন্তকারী দলের প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, খাজা ভাজার জন্য অত্যন্ত নিম্নমানের ও ক্ষতিকর তেল ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং যে চিনির রস বা সিরা ব্যবহার করা হচ্ছিল তা ছিল বহু পুরোনো ও পচাগলা। এই গুরুতর অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত দোকানগুলিকে তীব্র সতর্কবার্তা দেওয়ার পাশাপাশি প্রায় চার কুইন্টাল নিম্নমানের খাজা বাজোপ্ত করে তা সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেওয়া হয়। বিশেষ করে জগন্নাথ মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বারের কাছাকাছি অবস্থিত চারটি বড় দোকানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ওই দোকানগুলির মালিকপক্ষকে সতর্ক করার পাশাপাশি মোট পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও ধার্য করা হয়েছে। প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপে অসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে যেমন চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, তেমনই পর্যটক মহলেও সচেতনতার বার্তা পৌঁছেছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *